জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো (Joka-Esplanade Metro) প্রকল্পের কাজে বড় সাফল্য। খিদিরপুর (Kidderpore) থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (Victoria Memorial) মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত প্রথম সুড়ঙ্গ খননের কাজ সফলভাবে শেষ করেছে টানেল বোরিং মেশিন (Tunnel Boring Machine) ‘দুর্গা’। এর ফলে পার্পল লাইন (Purple Line) তৈরির কাজ আরও এক ধাপ এগোল। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি সুড়ঙ্গ তৈরির কাজও শেষ হবে। এতে জোকা-এসপ্ল্যানেড রুটে মেট্রো পরিষেবা চালুর প্রস্তুতিও অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

এই  সুড়ঙ্গ খননের জন্য একসঙ্গে কাজ করছে দুটি অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’। খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট (Park Street) পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের বেশি অংশে জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে মাটির প্রায় ১৭ মিটার নীচে এই খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি মেশিন এসপ্ল্যানেডের দিকে এগোচ্ছে, অন্যটি জোকার দিকের সুড়ঙ্গ তৈরি করছে। নির্ধারিত সময় মেনে পর্যায়ক্রমে দুই মেশিনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ (Metro Authorities)।

এই ধরনের প্রকল্পে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকে শহরের নীচের মাটির ভারসাম্য বজায় রাখা। সেই কারণেই টিবিএমগুলিতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে খননের সময় মাটি বসে যাওয়ার বা অন্য কোনও ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে। আধুনিক সেন্সর, চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ নজরে রাখা হচ্ছে। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নীচ দিয়েও নিরাপদে সুড়ঙ্গ নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে।

শুধু এই প্রকল্পই নয়, শহরের অন্য মেট্রো তৈরির কাজেও গতি এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে চিংড়িঘাটার মেট্রোর (Chingrighata Metro) কাজও শুরু হয়েছে। একাধিক প্রকল্পে একসঙ্গে অগ্রগতি হওয়ায় কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ আরও জোরদার হয়েছে। জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো নির্মাণও একই গতিতে এগোলে আগামী দিনে দক্ষিণ কলকাতার (South Kolkata) যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।