দলের একঝাঁক ‘গদ্দার’রা দলত্যাগের পরে সংগঠনের সব কমিটি ভেঙে দিয়ে যাঁদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), দু’মাস কাটতে না কাটতেই তাঁরাও সরে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব নিজের হাতে নিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। শনিবার, স্যোশাল মিডিয়া লাইভ (Social Media Live) করে জানিয়ে দিলেন, “কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠনটাও এখন আমি চালাব।“ একই সঙ্গে জানিয়ে দেন রাজ্য তৃণমূলের নতুন দুই সাধারণ সম্পাদক হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) ও বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। 

শনিবারই রাজ্য সভানেত্রীর পদ-সহ সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত-সন্দীপন শিবিরে নাম লিখিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। এবার তাহলে ওই পদে কে? এই প্রশ্ন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে, তখন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ স্যোশাল মিডিয়ায় লাইভ করে মমতা জানিয়ে দেন সর্বভারতীয় সভানেত্রীর পাশাপাশি রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্বও নিজের হাতে রাখছেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, “কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই। দলের রাজ্য সংগঠনটাও এখন আমি চালাব। আপাতত সারাদিন দলটাই দেখব। এমনি আমি রোজ এই পার্টি অফিসে বসি, কর্মীদের সঙ্গে দেখা করি। এবার থেকে আরও বেশি সময় দেব।“ 

পাশাপাশি, তৃণমূল সভানেত্রী জানান, “এছাড়া কাজ চালাতে সুবিধার জন্য দু’জন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঠিক করেছি। মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ হবেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা এই কাজে আমাকে সাহায্য করবেন।” মদন মিত্র তৃণমূলের দমদম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। আর সম্প্রতি কুণালকে উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি করেছেন দলনেত্রী। আগেও অবশ্য রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন কুণাল। এখন বিধায়কের পাশাপাশি সাংগঠিক দুটি  দায়িত্ব মদন-কুণালের। 

শুক্রবার মেট্রোপলিটানে তৃণমূলের কার্যালয়টি রীতিমতো দখল করে নেন ঋতব্রত-সহ তাঁর সঙ্গীরা। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে বড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় অফিসে। এই ঘটনা ঘটছে, তখন ভবনে ছিলেন দলের তৎকালীন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা। কিন্তু ভবন দখলে বাধা না দিয়ে উল্টে কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র পৌঁছনোর আগেই এলাকা ছাড়েন চন্দ্রিমা। বিস্তারিত ঘটনা শুনে চন্দ্রিমার কাছে জবাবদিহি চান তৃণমূল সুপ্রিমো। তার পরেই তৃণমূলের সব পদ ছেড়ে দেন চন্দ্রিমা। দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। এরপরই বিকেলে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় থেকে স্যোশাল মিডিয়া লাইভ করে সংগঠনে রদবদলের ঘোষণা করেন মমতা।