নিজের অফিসে রহস্যমৃত্যু ত্রিপুরা পুলিশের ডিজি অনুরাগ ধনকর। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা প্রথমে পুলিশের মুখ্য কার্যালয় ও পরে জিবি হাসপাতালে যান। দেহ উদ্ধার করে সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পিএইচকিউ (PHQ)-তে নিজের অফিসের ভেতরে ধনকরকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে দ্রুত আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্ত (জিবিপি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত যেখানে পরবর্তী প্রক্রিয়া চলছে।

রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এই পুলিশকর্তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ত্রিপুরার প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা মহলে চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রবীণ আইপিএসের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে লিখেছেন, "গোটা দেশের মধ্যে বিরল অঘটন।
নিজের দপ্তরে ত্রিপুরার রাজ্য পুলিশ প্রধান অনুরাগ ধনকড়ের রহস্যমৃত্যু। সূত্রের খবর সকালে দপ্তরে আসেন তিনি। বাথরুমে মৃতদেহ পাওয়া যায়। আত্মহত্যা, অসুস্থতায় মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের একটি মহল বলছে আত্মহত্যা। অসমর্থিত খবরে কিছু বিষয় শোনা যাচ্ছে। তবে সেসব রাজনৈতিক প্রশাসনিক বিষয় তদন্তসাপেক্ষ। জল্পনা বা চর্চার নিশ্চয়তা নেই এখনও। দেহ ময়নাতদন্তে গিয়েছে।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে নিজের দপ্তরে পুলিশ প্রধানের চাঞ্চল্যকর অস্বাভাবিক মৃত্যুর যথাযথ, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।"

প্রসঙ্গত, অনুরাগ ধনকর ১৩,০০০ কোটি টাকার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় ৬,৪৯৮.২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আপাতত ত্রিপুরার ডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স), প্রায় ১৬ বছর ধরে ত্রিপুরায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-তে তিনি পুলিশ সুপার, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, যুগ্ম পরিচালক এবং অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধনকর সিআইএসএফ-এ ইন্সপেক্টর জেনারেল (পার্সোনেল) এবং কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে থাকাকালীন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইন ও শৃঙ্খলা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।