Site Logo

নৈহাটি জুটমিলে তালা: শ্রমিক সমস্য়ায় ময়দানে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন!

EBBS Desk·
নৈহাটি জুটমিলে তালা: শ্রমিক সমস্য়ায় ময়দানে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন!

একদিকে রাজ্যে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister Suvendu Adhikari)। অন্যদিকে বিজেপি (BJP) রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম প্রাচীন শিল্প প্রতিষ্ঠান নৈহাটি জুটমিলের গেটে ঝুলে গেল ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্কস’ এর নোটিস। এক ধাক্কায় অনিশ্চয়তায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ। নতুন কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই পুরনো শিল্পে তালা পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। রাজ্যে একটিও নতুন কারখানা খুলতে পারার আগেই বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের রাজনীতি ঢুকে পড়েছে শিল্পক্ষেত্রে। নৈহাটি (Naihati) জুটমিলে তালা পড়ার ঘটনায় শ্রমিক সংগঠন মজদুর সংঘ (Bharatiya Mazdoor Sangh) মাঠে নেমে পড়াকেও দায়ী করছেন কাজ হারানো শ্রমিকরা।

Sponsored

Sranchi In Article

গত সপ্তাহে বন্ধ হয় নৈহাটির অত্যন্ত পুরোনো নৈহাটি জুটমিল (Naihati Jutemills)। মিল কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধের পিছনে কাঁচা পাটের জোগানে ঘাটতি, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করেছে। তাঁদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে আগের মতো উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না। তবে শ্রমিকদের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের দাবি, মিলে এখনও কয়েকদিন কাজ চালানোর মতো পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুত ছিল। তাই শুধুমাত্র পাটের সংকট দেখিয়ে আচমকা মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে অন্য কারণও থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। এরই পাশাপাশি শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া মজুরি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্য মিটিয়ে না দিয়েই হঠাৎ করে মিলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে কাজ বন্ধ, অন্যদিকে প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ার আশঙ্কা দুইয়ের চাপে কার্যত দিশেহারা বহু পরিবার।

মিল বন্ধকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ভারতীয় মজদুর সংঘের (BMS) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিল্প পরিচালনায় ব্যর্থতার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কাজ হারানো শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সক্রিয়তা এবং লাগাতার সংঘাত মিলের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন : আলিপুরে পুড়ে ছাই ৪০০০ EVM! ইচ্ছাকৃত আগুন, দাবি উদ্ধব শিবিরের

বর্তমানে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল পুরোটাই বিজেপির দখলে। খোদ নৈহাটিতে বিধায়ক বিজেপির। কাছেই নোয়াপাড়া বিধানসভা থেকে বিধায়ক অর্জুন সিং, যিনি আবার রাজ্যের মন্ত্রী। একসময় এই অর্জুন সিং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে পাটশিল্পের সমস্যা নিয়ে পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়ে দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই সেই জুটমিল বন্ধে সমস্যায় শ্রমিকরা। যে সমস্যার কথা অর্জুন এতদিন বলে এসেছেন, নতুন করে সেই অজুহাতই দিচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে ভারতীয় মজদুর সংঘ। সেখানেই কারখানা বন্ধে বিজেপির শ্রমকি সংগঠনের মাথাচাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন শ্রমিকরা। যে কারণে রাজ্যে শিল্পে জোয়ারের কথা শুভেন্দু-শমিক বললেও আদতে বাংলার শিল্প বাঁচানোর কোনও উদ্যোগই নেই রাজ্যের বিজেপির সরকারের। যা নৈহাটির (Naihati) ঘটনায় প্রমাণিত।

-

-

-

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →