বাদল অধিবেশন শুরুর আগের দিন চিরচারিত সর্বদল বৈঠক বেনজির পরিস্থিতি। সরকারের ডাকা সর্বদল থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট (Walkout) করলেন তৃণমূল-সহ বিরোধীদলের সাংসদের একাংশ। কিছুক্ষণ পর ফের বৈঠকে যোগ দেন তাঁরা। কেন দলত্যাগী এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে? এই নিয়ে
সোমবার থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে প্রথা মেনে রবিবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়। তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকেও বৈঠকে ডাকা হয়। কিন্তু তৃণমূলের দলত্যাগীদের NCPI-তে যোগদানের বিষয়টি এখনও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অনুমোদন পায়নি। ফলে একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা সংসদীয় রীতিনীতি পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদরা।
বৈঠক শুরু হওয়ার পরেই প্রতিবাদ করে সর্বদলীয় বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলের সাংসদরা। তবে এটি ছিল পুরোপুরি প্রতীকী ওয়াকআউট। কিছু সময় পরেই ফের বৈঠকে যোগ দেন তাঁরা।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের মতে, "আমাদের আপত্তি হল, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নামই নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে।" মহুয়া মৈত্র সাংবাদিকদের বলেন, "আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দলসমূহ, শিবসেনা ইউবিটি সহ সমগ্র বিরোধী দল প্রতিবাদস্বরূপ সর্বদলীয় সভা থেকে ওয়াকআউট করেছে। এর কারণ হল, টেবিল অফিসের দেওয়া তালিকায় তথাকথিত এনসিপিআই -যা একটি আদতে স্বীকৃত না পাওয়া দল- তাদের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যসংখ্যা মিলিয়ে মোট ২৮ জন সদস্য দেখানো হয়েছে। ওই তথাকথিত বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের দলবদল বা সংযুক্তি স্পিকার অনুমোদন করেনি এবং তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের ২০টি আবেদন এখনও বিচারাধীন। ৯১তম সংবিধান সংশোধনের পর আলাদা কোনো 'ব্লক' গঠনের আর কোনো অবকাশ নেই। তাহলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কোন যুক্তিতে এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে আমন্ত্রণ জানালেন এবং তাঁরা কীভাবে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন? আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা আমাদের সহযোগী বিরোধী দলগুলির প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, TMC এবং শিবসেনা (UBT)-র বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলি সর্বদলীয় বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকের আগে জেএমএম (JMM) সাংসদ মহুয়া মাঝি সাংবাদিকদের বলেন, "আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন বিজেপি কীভাবে অন্যান্য দলের সাংসদদের দলে টানছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে তাদের সম্ভবত এখনও প্রায় ছয়টি আসন কম আছে। তাই, তাদের অবশ্যই ভারতের বিরোধী জোটের ওপর নির্ভর করতে হবে। তারা নারী সংরক্ষণ বিলটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।"
সিপিএম (CPIM) নেতা জন ব্রিটাস বলেন, "সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানোটা ছিল 'ন্যায়ের পরিপন্থী'"।
তবে সরকারের পক্ষে সাফাই দিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সর্বদল বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কারণ এ ধরনের বৈঠকে 'সকলকে' আমন্ত্রণ জানানো সরকারেরই দায়িত্ব।
















