সংখ্যার জোরে অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের (OBC) সংরক্ষণ নিয়ে জোড়া সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ করিয়ে নিল সরকার। সোমবার, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বিল দুটি বিধানসভায় পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। ধ্বনিভোটেই বিল দুটি পাশ করিয়ে নিতে চায় সরকারপক্ষ। কিন্তু তাতে বাধা দিয়ে ভোটাভুটি চান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। সেই আবেদনে মেনে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু (Rathindra Basu) ভোটাভুটিতে সম্মতি দেন। মমতা-পন্থী বিধায়করা ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও ঋতব্রত-পন্থী বিধায়কদের মধ্যে ৬জন ছাড়া বাকিরা ওয়াকআউট করেন। তবে, ওই ৬জনও ভোটে অংশগ্রহণ করেননি। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬টি, বিপক্ষে পড়ে ১৭টি। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির বিল পাশে পথ সুগমন করতেই কক্ষত্যাগ করে ঋতব্রত-গোষ্ঠী। 

গত তৃণমূল সরকার ওবিসি সংরক্ষণে ৬৬ থেকে বাড়িয়ে ১১৩টি জাতিকে তালিকাভুক্ত করেছিল। ২০১২ সালের ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত পুরনো আইনটিকে সংশোধন ও সংস্কার করার লক্ষ্যে এদিনের অতিরিক্ত তালিকাভুক্ত জাতিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই দুই বিল- ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’- পাশের ফলে ওবিসি সংরক্ষণের কাঠামোয় বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রথমে বিলের পক্ষে বলতে ওঠেন দমদমের বিজেপি (BJP) বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। তাঁর দাবি, তোষণ ও ভোটব্যাঙ্ককে নজরে রেখে আগের তৃণমূল সরকার ওবিসি তালিকা তৈরি করেছিল। বিলের বিপক্ষে বক্তৃতা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল (TMC) গোষ্ঠীর বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস। বিলের বিপক্ষে বলেন নওশাদ। তাঁর কথায়, এই বিল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি করবে। কেরল, তামিলনাড়ুর মডেল মেনেই এই বিল হওয়া উচিত। OBC সম্প্রদায়ের মধ্যে মতেভদ তৈরি হবে। ধর্মীয় পরিচয় না দেখে সলংরক্ষনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা হোক। 

ডোমকলের সিপিএম (CPIM) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি অস্বীকার করছি না আগের সরকারের আমলে এই সংরক্ষণ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে… তবে এই ক্যাটেগরিতে যাঁরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অনেক ছেলেমেয়েরা কর্মরত আছেন, আমি বলতে চাই তাঁরা কোনও ধরনের যেন অসুবিধায় না পড়েন। সেটা দেখেই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।“

ভোটাভুটির আগে ঋতব্রত শিবিরের অধিকাংশ বিধায়ক বেরিয়ে যান। কিন্তু কয়েকজন বেরোতে না পেরে অধ্যক্ষের কাজে অনুমতি চান। ভর্ৎসনা করে তাঁদের ওয়াকআউটের অনুমতি দেন স্পিকার। তবে, ঋতব্রত শিবিরের ৬ বিধায়ক- বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, কাজল শেখ, বাহারুল ইসলাম, পান্নালাল বিশ্বাস, তৌফিকুর রহমান বিধানসভা কক্ষে থাকলেও ভোটাভোটিতে অংশ নেননি। কালীঘাট শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, আলিফা আহমেদ ও পুলক রায়রা ভোটাভুটিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ওবিসি সংরক্ষণের জন্য ক্যাটেগরি ‘এ’-র আওতায় মোট ৬৫টি জনগোষ্ঠী রয়েছে। তৃণমূল জমানায় তৈরি আইনে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রয়েছে ৭৮টি জনগোষ্ঠী। সেই তালিকা সম্বলিত ‘সিডিউল ওয়ান’ নতুন বিলে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনগ্রসর কমিশনে কোনও গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।