বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের রোষের মুখে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক। এবার তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। VIP রোড থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত নয়ানজুলি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল মামলায় আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে 'দায়সারা' রিপোর্টের জেরে এই নির্দেশ।
শুক্রবার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর মন্তব্য, "আমাদের মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। তাই সশরীরে আসতে হবে হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে।" আগামী ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে আদালতে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন যে রিপোর্ট জমা পড়ে, তাতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। এছাড়াও, জেলাশাসকের স্তরের আধিকারিক নিজে হলফনামা না দিয়ে অন্য কর্মীকে দিয়ে তা পাঠিয়েছেন দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারপতিরা। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি বলেন, জেলাশাসককে আসতে বলুন। উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করেন? গ্রুপ ডি স্টাফ ফাইল করছেন রিপোর্ট? আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।" ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, "প্রধান বিচারপতিকে অসম্মান করছেন। আপনি এত ব্যস্ত?"
২০২২ সালে রাস্তার ধারে নয়ানজুলি বুজিয়ে বেআইনি পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মাণের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অর্ধেন্দু নাগ নামের এক ব্যক্তি। নয়ানজুলি থেকে সমস্ত জবরদখল সরিয়ে খালমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল ওই মামলায়। ২০২২ সালে তৎকালীন জেলাশাসক স্বীকারও করে নেন যে সেখানে জবরদখল হয়েছে। তখন হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, জবরদখলের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার রিপোর্ট দিতে হবে।
এরপর গত কয়েক বছরে একাধিকবার জেলাশাসক বদল হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মামলাকারীর আইনজীবী রবীন্দ্র নারায়ণ দত্ত আদালতে জানান, কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যেই তিনবার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। আদালত গত ১৫ জুন শেষবারের মতো সতর্ক করে জানিয়েছিল, এবার ঠিকঠাক রিপোর্ট না দিলে সশরীরে ডেকে পাঠানো হবে।
















