অভিনব উদ্যোগ। এই ঘটনা আগে কখনও দেখেনি বাংলা। গণতন্ত্রের পীঠস্থানে যাঁরা জনপ্রতিনিধিত্ব করেন, আইন-রীতি-ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের সম্যক জ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই অভিনব উদ্যোগ রাজ্যের নবনিযুক্ত বিজেপি সরকারের (BJP Government)। বিধায়কদের দেওয়া হচ্ছে গণতন্ত্রের পাঠ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Abhikari) দাবি, বিধানসভা কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান। তাই শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সকল জনপ্রতিনিধিকে সমান মর্যাদা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
এবারের বিধানসভায় (Assembly) একঝাঁক নতুন মুখ। তার মধ্যে কারও কারও সংসদীয় রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকলেও, কেউ কেই বিধানসভায় আনকোরা। আবার কেউ কেউ কোনও দিন দর্শক হিসেবেও আইনসভায় পা রাখেননি। এই পরিস্থিতিতে বেনজির উদ্যোগ নেন শুভেন্দু অধিকারী। একেবারে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লাকে (LokSabha Speaker Om Birla) ডেকে বিধায়কদের (MLA) ২দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানে শাসকদলের পাশাপাশি সমান মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিরোধী বিধায়কদেরও। তবে, শুধু এখানেই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর থেকেই আমরা-ওরার সংস্কৃতি সরিয়ে শাসক-বিরোধী দু-পক্ষকে নিয়েই সরকার চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। গত দেড় মাসে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকগুলিতে বিরোধীদলের বিধায়কদের ডাকা হয়েছে- আগে এই দৃশ্য তেমন দেখা যেত না।
এদিন প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন লোকসভার স্পিকারও। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি রয়েছে। তিনি গণতন্ত্র মজবুত করার কাজ করছেন। এটা ঐতিহাসিক সময়। অতীত আর ভবিষ্যত একসঙ্গে নিয়ে আপনারা এগোবেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার কাজ আমাদের লক্ষ্য। আপনারা যেভাবে কাজ করবেন, ইতিহাস আপনাদের মনে রাখবে।“ ওম বিড়লার কথায়, “এই স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে।“ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিধানসভার মর্যাদা রক্ষার উপর জোর দেন ওম বিড়লা।
এর আগে অন্যান্য রাজ্যে এই পাঠশালা আয়োজিত হত। কিন্তু বাংলায় সেটা হয়নি। এবার মসৃণ, স্বচ্ছ, জনমুখী বিধানসভার কাজের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে শাসক-বিরোধী সব শিবিরই।
















