দেশের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হল। প্রাথমিক ভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্রম-১ উৎক্ষেপণ করার কথা থাকলেও ঠিক পাঁচ মিনিট আগে সেটা স্থগিত করে দেওয়া হয়। তবে ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত, সেটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর গোটা বিষয়টি ‘পরিকল্পিত’। অবশেষে দুপুর ১২.০৫ মিনিটে রকেটটি মহাকাশে পাড়ি দিল।

‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি গড়তে চলেছে ভারত। ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাল। এতদিন সরকারি সংস্থা ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠালেও এবার সেই ধারায় বদল আনা হয়েছে। তবে এই অভিযানে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে ISRO। উল্লেখ্য, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোয় হঠাৎ করে চাকরি ছা়ড়ার হিড়িক রীতিমত ভাবাচ্ছে কেন্দ্রকে সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিছুদিন আগেই গণহারে পদত্যাগের আবেদন করছেন মহাকাশ গবেষকেরা। গত কয়েক মাসে ইসরো কর্তৃপক্ষের কাছে শতাধিক পদত্যাগপত্র জমা পড়েছে। এরপরেই মহাকাশ গবেষণা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর আটকানোর পথ খুঁজতে নির্দেশ জারি করেছে। ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের সিংহভাগ বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার এবং তিরুঅনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের। মনে করা হচ্ছে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের মারাত্মক হারে বৃদ্ধি, ইসরোর সাংগঠনিক সমস্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই 'ব্রেন ড্রেন' এর কারণ হতে পারে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, যেমন এলভিএম৩ প্রকল্পের ডিরেক্টর ভিক্টর জোসেফ এবং স্পেডেক্স প্রকল্পের ডিরেক্টর আদিত্য রাল্লাপল্লি।

প্রসঙ্গত, শনিবার ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘'ভারতের মহাকাশ যাত্রায় এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল। আজ সকাল ১১:৩০, স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি লঞ্চ ভেহিকেল বিক্রম-১ প্রথম কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করবে। এই অভিযান আমাদের যুবসমাজের মেধা, সংকল্প এবং উদ্যোগী মনোভাবকে সামনে আনছে। এই বিশাল কর্মকাণ্ডের জন্য স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের পুরো টিমকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। বিক্রম-১ যেন ইতিহাস তৈরি করে। সকলকে টিম স্কাইরুটের সাফল্য কামনা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’'