নামে ‘হোল্ডিং সেন্টার’, আদতে ‘ডিটেনশন সেন্টার’! বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

মুখ্যমন্ত্রী ও ওঁর প্রশাসন মুখে একে যতই ভাল নামে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding Centre) বলুক না কেন, এটা ‘ডিটেনশন সেন্টার’ ছাড়া আর কিছুই নয়! সোমবার, তৃণমূল (TMC) ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নিয়ে রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারকে নিশানা করল তৃণমূল। তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) লালগোলা ও মালদহের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেন তাঁরা। একই সঙ্গে যোগীরাজ্যের কায়দায় বাংলায় বুলডোজার নীতি চলবে না বলে জানান কুণাল-বাবুল।
Sponsored

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও ওঁর প্রশাসন মুখে একে যতই ভাল নামে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বলুক না কেন, এটা আদতে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ (Detention Center) ছাড়া আর কিছুই নয়! অসমের পর এবার বাংলাতেও এরা এই বিভেদের রাজনীতি আমদানি করছে। আমরা প্রথম থেকেই এই ধরণের অমানবিক ও বেআইনি ডিটেনশন সেন্টারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছি এবং আগামী দিনেও করব।”
তৃণমূলের কথায়, কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যদি সত্যিই কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতের মাটিতে ঢুকে থাকেন, তার দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের এবং সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ (BSF)-এর। কুণালের (Kunal Ghosh) মতে, যদি কেউ বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করে, তবে তাঁকে দেশের আইন মেনে পুশব্যাক করার একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। আইন অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীকে প্রথমে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করতে হয়। আদালত সব নথি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। সংশোধনাগারে পাঠাতে হবে এবং দুদেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে জেল থেকে নির্দিষ্ট আইনি মেনে পুশব্যাক করতে হবে। এটাই নিয়ম।
রাজ্যেরব বিজেপি সরকার (BJP Government) যেভাবে আদালতের ট্রায়াল ছাড়াই তড়িঘড়ি এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এর মানুষকে পুরছে, তা নিয়ে বড়সড় চক্রান্তের অভিযোগ তৃণমূলের। কুণাল বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলায় বহু মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্থগিত বা হোল্ড করে রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশ্রয় নিয়ে খোদ এ দেশেরই কোনও বৈধ নাগরিককে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে এই হোল্ডিং সেন্টারে ফেলে হেনস্থা করা হচ্ছে কিনা, তা কে সুনিশ্চিত করবে? তাড়াহুড়ো করে এই বেআইনি প্রক্রিয়ায় বড় ভুল হচ্ছে এবং বহু নিরীহ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।”
সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রের মোদি সরকার ও শুভেন্দু অধিকারীকে এক তিরে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বলেন, “স্রেফ সন্দেহের বশে বা গায়ের জোরে কীভাবে কাউকে এভাবে আটকে রাখা যায়? তাহলে সীমান্ত পাহারার নামে বিএসএফ এতদিন কী করছিল? অনুপ্রবেশ আটকাতে হলে তো তা দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তেই আটকানো উচিত ছিল। এখন তো বিএসএফ-কে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত জমি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই মুহূর্তে তো কেন্দ্র এবং রাজ্য - দুই জায়গাতেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে! তাহলে এত ফাঁক গলে অনুপ্রবেশ হচ্ছে কী করে”।
-
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

টার্গেট করে বিধানসভায় বলতে দিচ্ছে না, এর নাম গণতন্ত্র! মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ কুণালের
Just now

আমার নাম কেটেছেন কেন? আখরুজ্জামানকে কুণালের প্রশ্নে ধুন্ধুমার বিধানসভা! টেনে-হিঁচড়ে বের করা হল বেলেঘাটার বিধায়ককে
3h ago

আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
6h ago

রাস্তা জুড়ে অবৈধ দখলদারি চলবে না, হকারদের সতর্ক করলেন অগ্নিমিত্রা
7h ago

কথা বলতে হলে সরকারকে আসতে হবে যন্তর মন্তরে: CJP
10h ago

পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি, নিউটাউনে একই পরিবারের মৃত তিন
23h ago
More from শিরোনাম
View All →
ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
23h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
1d ago

সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ধস-গ্যাস বিস্ফোরণ! মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
1d ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
1d ago

ককরোচদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ! জবাব চাইতেই মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের
1d ago
