বিধানসভায় পাশ হয়েছে 'পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬' (গুন্ডা দমন বিল)।  রাজ্য সরকারের এই বিলের সমালোচনা করে সরব বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ছোটন দাস। তাঁর অভিযোগ, এই আইন আসলে অপরাধ দমনের জন্য নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা যে কোনও গণতান্ত্রিক ও বিরোধী কণ্ঠস্বরকে বন্ধ করে দেওয়ার এক বিপজ্জনক হাতিয়ার।

ছোটন দাসের মূল প্রশ্ন, রাজ্যে অপরাধ দমনের জন্য যেখানে ইতিমধ্যে একাধিক নির্দিষ্ট আইন রয়েছে, সেখানে এই নতুন কালাকানুনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এই আইনের ভিতরে যা আছে ডাকাতি থেকে শুরু করে নানা বে-আইনি কাজের কথা বলা আছে তার জন্য তো নির্দিষ্ট আইন আছে। তিনি বলেন, "যেমন চুরির জন্য আইন আছে, ডাকাতির জন্য আইন আছে, ল্যান্ড ক্রাইমের জন্য আইন আছে বা আপনাকে যদি ভয় দেখাই বা থ্রেট করি তার জন্যেও আইন আছে, তাহলে এই আইনটা আনা হল কেন? এই আইনটা আসলেই আনা হয়েছে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্যই।"

নতুন এই বিলের আইনি ফাঁকফোকর ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ছোটন। তাঁর মতে, গোটা বিচার বিভাগের প্রতি এই সরকারের গভীর অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, "এই আইনে বলা আছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এক বছর পর্যন্ত আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে পারবেন না। একজন SP চাইলে যেকোনো মুহূর্তে আমাকে 'ভীষণ ভয়ঙ্কর লোক' বলে দাগিয়ে দিতে পারেন। কেন ভয়ঙ্কর তার কোনও কারণ জানানোর দরকার নেই ইনি কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী পাঁচটা জেলায় থাকতে পারবেন না- এইরকম ঘোষণা করা হলে আমি থাকব কোথায়?" 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে এই আইনের কোনো অপপ্রয়োগ (Misuse) হবে না। এর জবাবে ছোটন দাস বলেন, ওনার কথার ওপর আস্থা রাখলেও, আইনের 'সঠিক প্রয়োগই' করা হবে সরকারের সমালোচকদের দমনে। যাঁরা সংবিধানের ধারা তুলে সরকারের জনবিরোধী নীতি, রাজনৈতিক ভুলত্রুটি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, এই আইন আসলে তাঁদেরই নিশানা করবে। 

ছোটন মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘মিসা’ (MISA - Maintenance of Internal Security Act) আইনের অবমাননাকর প্রয়োগ করে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে লালকৃষ্ণ আদবানিকে ১৪ মাস এবং অটলবিহারী বাজপেয়ী-সহ অজস্র বিজেপি নেতা-কর্মীকে ১৯ মাস জেলে পুরে রেখেছিলেন।