মসজিদ থেকে আজানের মাইক খোলার অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা ঘিরে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে কার্যত অন্য ছবি। মামলার আইনি প্রশ্ন ছাপিয়ে এদিন শুনানিতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চরমে পৌঁছায়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচারপতিকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এজলাসেই কুরুচিকর বাগযুদ্ধ! পরিস্থিতি সামলালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
মামলার আইনি প্রশ্ন ছাপিয়ে এদিন শুনানিতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চরমে পৌঁছায়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচারপতিকেই হস্তক্ষেপ করতে হয়।
Sponsored

বিতর্কের সূত্রপাত মসজিদের মাইক খোলার অভিযোগ নিয়ে চলা মামলার শুনানিতে। মামলাকারী পক্ষের দাবি, রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার খুলে নেওয়ার জন্য পুলিশ চাপ দিচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুর, রিষড়া, চাঁপদানি, ভদ্রেশ্বর-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মৌখিকভাবে মাইক খুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। আদালত অবশ্য মামলার আবেদনে সঠিক তথ্যের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। নির্দিষ্ট ঘটনা চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খোলা বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানায় ডিভিশন বেঞ্চ। অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। আগামী মঙ্গলবার ফের মামলাটির শুনানি।
কিন্তু মামলার আইনি বিতর্কের মধ্যেই আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চটি চেটে খায়’ ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। পাল্টা কল্যাণও এজি-কে নিশানা করে বলেন, "উনি তো শুভেন্দু অধিকারীর বুট চেটে খাওয়া অ্যাডভোকেট জেনারেল!" এই মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যে এজলাসের পরিবেশ কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতের মাত্রা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয় বিচারপতিকে।
শুনানি শেষে আদালতের বাইরে এসেও অবশ্য থামেননি কল্যাণ। রাজ্যের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সংবেদনশীল মামলাগুলিতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে চাপে রয়েছে এবং সেই কারণেই আদালতে অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। এজি-র বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি এবং আদালতে তথ্য উপস্থাপন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনি প্রশ্ন নিয়েই আপত্তি তোলা হয়। ফলে মসজিদের মাইক সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা ঘিরে কার্যত বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে এক অন্যরকম ছবি দেখা যায়।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













