পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাতবাসী এক মহিলার সঙ্গে শনিবার পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Minister for Municipal and Urban Development Agnimitra Paul) 'অমানবিক' আচরণের ২৮ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার ফুটপাতবাসীর পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Trinamool MLA Kunal Ghosh)। ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েও গরিব মানুষের প্রতি প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার বলে অগ্নিমিত্রা পালের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন কুণাল।
পার্ক স্ট্রিট (Park Street) গিয়ে কুণাল বলেন, “গতকাল রাজ্যের মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দেখছিলাম, তিনি এখানে এসে একজন ফুটপাতবাসী, যিনি বাচ্চার জন্য দুধ গরম করছিলেন, তাঁর সঙ্গে পুলিশ নিয়ে এসে বলছেন, পার্ক স্ট্রিটের মতো জায়গায় এই সব করা যাবে না।” তাঁর বক্তব্য, ফুটপাত পথচারীদের জন্য খোলা রাখার পক্ষেই তাঁরা। তবে সেই সঙ্গে গরিব মানুষের বাস্তব পরিস্থিতির কথাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এই নিয়ে পার্কস্ট্রিট থানায় গিয়ে কথা বলেছেন কুণাল ঘোষ।
অগ্নিমিত্রাকে নিশানা করে কুণালের কটাক্ষ, “আমরা কখনও মন্ত্রীকে দেখছি বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে জলে ডুবে থাকা জায়গায় নৌকা করে ঘুরে ঘুরে বলছেন, মানুষ ডুবে আছে ঠিকই, কিন্তু কী অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।” তাঁর প্রশ্ন, বন্যার জলে যখন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তখন সেই পরিস্থিতিকে সৌন্দর্যের চোখে দেখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, এছাড়াও এখানে এসে একটা বাচ্চার জন্য দুধ গরম হচ্ছিল, আর সেখানে পুলিশ নিয়ে এসে মন্ত্রী বলছেন কেন দুধ গরম করা হচ্ছে।
ফুটপাতবাসীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে কুণাল বলেন, “এই ছোট বাচ্চা নিয়ে কোনও মানুষ স্বেচ্ছায় ফুটপাতে থাকেন না। তাঁদেরও ইচ্ছে করে ঘরে থাকতে। গরিব কেউ শখ করে হয় না।” তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি কোনও জবরদখলকে সমর্থন করছেন না। তবে ফুটপাত খালি করতে হলে বিকল্প ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসনের কথাও সরকারকে ভাবতে হবে।
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথাও সামনে আনেন কুণাল। তাঁর দাবি, ওই মহিলাকে ফুটপাত থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ লাঠি দিয়ে মারার কথাও বলেছে। কুণালের আবেদন, “আমি অগ্নিমিত্রা পালকে দয়া করে এসে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করছি।” তাঁর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সরকারের মানবিক মুখটিও সামনে আসা দরকার।
ওই মহিলার পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন কুণাল। তিনি জানান, মহিলা পাঞ্জাব থেকে এসেছেন। যাঁকে বিয়ে করে এসেছিলেন, তিনি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর এক ছেলে এবং দুই মেয়ে, যার মধ্যে ছেলেটি মারা গিয়েছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু তারপরেও মেয়ে এবং নাতি নিয়ে এখন ফুটপাতেই থাকেন তারা। এই পরিস্থিতিতে ফুটপাত থেকে সরানোর আগে তাঁর এবং সন্তানের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও কাজের ব্যবস্থা করার দাবিই তোলেন কুণাল।
















