শিখা ইন-কাণ্ডের (Shikha In) তদন্তে এবার পুলিশের হাতে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্র (Bireshwar Mitra)। শনিবার বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডের (Diamond Harbour Road in Behala) বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁর আচরণ ঘিরেই তৈরি হয়েছিল একাধিক প্রশ্ন। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর কলকাতা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে (Dhanbad, Jharkhand) চলে গিয়েছিলেন বীরেশ্বর। সেখানে আত্মগোপন করে থাকার পর শনিবার আচমকাই নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি। কেন পালিয়ে গিয়েছিলেন কেনই বা তিনি ফিরে এলেন, সেই উত্তরই এখন জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
বীরেশ্বরের গতিবিধি এবং আর্থিক লেনদেনের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর দুটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Account Freeze) করা হয়েছিল। ফলে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি ধানবাদ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও দেখছেন তদন্তকারীরা। ঝাড়খণ্ডে বীরেশ্বরের কয়েক জন কর্মচারীর বাড়ি রয়েছে। আত্মগোপনের সময়ে তাঁদের কারও আশ্রয় বা সাহায্য নিয়েছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার ভোরে হোটেলের এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর শুধু শিখা ইন নয়, নিউ মার্কেট এলাকার একাধিক হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি শুক্রবার ১১টি হোটেল বন্ধ করে। শনিবার আরও ছটি হোটেলে তালা ঝোলানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এর পাশাপাশি ১৭টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করেছে দমকল। অগ্নিনিরাপত্তার বিধি মেনে হোটেলগুলি পরিচালিত হচ্ছিল কি না, সেই বিষয়টিই এখন প্রশাসনের নজরে।
তদন্তে শিখা ইন-এর মালিকানা ও লিজ সংক্রান্ত বিষয়ও সামনে এসেছে। একই ভবনের পাঁচতলায় হোটেলের আরও একটি অংশ ছিল, যা বীরেশ্বরের কাছ থেকে উমেশ সিংহ এবং জিতেন সিংহ লিজ নিয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি হোটেলের কর্মীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে বীরেশ্বরের কাছ থেকে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় শিখা ইন লিজ নেওয়া আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে মালিক থেকে লিজগ্রহীতা হোটেলটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।
















