ফুটপাতবাসীর দুধ গরম করাকে বাধা দিয়ে প্রবল বিতর্কে জড়িয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Municipal Minister Agnimitra Pal)। শনিবারের সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনীতিক, সমাজকর্মী, সাধারণ মানুষ থেকে কবি শ্রীজাত বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকি তাঁকে সমাজ মাধ্যমে 'ফুটপাত মন্ত্রী' হিসেবে কটাক্ষও করা হয়েছে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত করে এবার নিজের কর্মকাণ্ডের সাফাই দিতে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ভিডিও বার্তা দিলেন অগ্নিমিত্রা। বৃদ্ধার দুধ গরম করার বিষয়টির বদলে শিশুর নিরাপত্তাকেই সামনে এনে নিজের পদক্ষেপকে যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করেছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “কোনও বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। ওভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে শুধু ওখানে নয়, এই দৃশ্য কলকাতার অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। একটা দুর্ঘটনা যখন তখন হয়ে যেতে পারে। কে দায় নেবে তার?”

সাফাই দিতে গিয়ে ফের রাজনৈতিক আক্রমণের পথেই হাঁটেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর প্রশ্ন, “যে সরকার বছরের পর বছর ধরে ফুটপাতে মানুষদের বসিয়েছেন, কর্মসংস্থান করেননি, শুধু তোলাবাজি, ঘুষ আর যত রকমের দুর্নীতি হয়, সেগুলো করে গিয়েছেন গত ১৫ বছর ধরে তাঁরা আজ জনদরদী?” এর মধ্যেই রবিবার ওই ফুটপাথবাসী বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সেখানে দাঁড়িয়ে অগ্নিমিত্রার ভূমিকা এবং রাজ্য সরকারের ফুটপাত দখলমুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে সরব হন তিনি। ফলে বৃদ্ধার দুধ গরম করার ঘটনা ঘিরে তৈরি বিতর্ক ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পক্ষে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, “ফুটপাথ গরিব বা বড়লোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন, তাঁরা সবাই মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের রায় ফুটপাতকে হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে হবে। ফুটপাত মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “ফুটপাত থেকে হকার সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, অবৈধ পার্কিং সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, যারা রীতিমতো ফুটপাতকে বাসস্থান বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা। আপনাদের সুবিধা বা অসুবিধা দেখে তো সরকার কাজ করবে না।” শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে রাস্তা, নিকাশি-সহ শহরের পরিকাঠামো সংস্কার জরুরি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তবে অগ্নিমিত্রার এই সাফাই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। শনিবার ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পরই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। আর সোমবার সমালোচনার জবাব দিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রকাশ করলেন অগ্নিমিত্রা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অভিযানের সময় সংবাদমাধ্যমকে সামনে রেখে প্রচার, আর বিতর্কের মুখে পড়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয়। কেন এই ফারাক? অগ্নিমিত্রার দাবি, “১৫ বছরে বাংলার যে অবস্থা হয়েছে, তা কোনওভাবেই ১০০ দিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের এবং তা আমরা করব।” কিন্তু সেই সাফাইয়ে দুধের বাটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কতটা মেটে, সেটাই এখন প্রশ্ন।