ক্ষমতায় আসার পর ‘তোলাবাজি’র বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বারবার বলেছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু সেই দলেরই একের পর এক কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন বিজেপি নেত্রী মৌসুমী দাস (Mousumi Das)। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিয়োয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ব বাংলা সংবাদ) ব্যক্তির কাছ থেকে এক মহিলাকে টাকা নিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে থাকা ওই মহিলা বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা সম্পাদক মৌসুমি দাস (Women's Secretary of the Jadavpur Organizational District of the BJP Mahila Morcha)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ জমা পড়ার পরই তাঁকে সাসপেন্ড (suspend) করেছে দল। শুরু হয়েছে তদন্তও। সব মিলিয়ে এখন অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি।
তোলাবাজির অভিযোগে অস্বস্তিতে বিজেপি, সাসপেন্ড নেত্র
Sponsored

ভিডিয়োয় ঠিক কী কারণে টাকা দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যিনি ওই বিজেপি নেত্রীর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছিলেন তিনি মুকুন্দপুর (Mukundapur) এলাকার এক প্রোমোটার (Promoter)। বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মনোরঞ্জন জোয়ারদার (Manoranjan Jowardar, BJP's Jadavpur organizational district president) জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মৌসুমীকে শো-কজ করা হয়েছে এবং আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর জবাব পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিজেপি নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। অন্য দিকে, টাকা দিতে দেখা যাওয়া প্রোমোটার অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমার কোনও অভিযোগ নেই।’’ ভিডিয়োটি তিনিই করেছেন বা ছড়িয়েছেন কি না, সেই দাবিও নাকচ করেছেন তিনি। কে ভিডিয়োটি তৈরি করে প্রকাশ্যে এনেছেন, তা তাঁর জানা নেই বলেও জানিয়েছেন ওই প্রোমোটার। তাঁর কথায়, বিষয়টি তাঁদের এলাকার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং সেটিকে প্রকাশ্যে টেনে আনার প্রয়োজন নেই।
মৌসুমী দাস এর আগে যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে সক্রিয় ভাবে দেখা গিয়েছে। ফলে এই ঘটনা শুধু একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিজেপির স্থানীয় সংগঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। জেলা সভাপতি মনোরঞ্জন জোয়ারদারের বক্তব্য, রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে এলে বিভিন্ন স্তরে এমন প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখন মূল নজর তদন্তের দিকে। টাকা কেন দেওয়া হয়েছিল, লেনদেনের প্রকৃত কারণ কী এবং ভিডিয়োয় দেখা ঘটনার সঙ্গে কোনও বেআইনি আর্থিক দাবির যোগ রয়েছে কি না তার উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই। তার আগে ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। তবে ‘তোলাবাজি’ রুখতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া দলেরই এক নেত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তি যে তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













