যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) রাতের হামলা ঘিরে চাপানউতোর আরও তীব্র হল। সোমবার স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (Students' Welfare Board on Monday) সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে একাংশ পড়ুয়া সরাসরি প্রশ্ন তুললেন অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে (Professor Buddhadeb Sau) নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, হামলার রাতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ৪ নম্বর গেটের কাছে বুদ্ধদেবকে দেখা গিয়েছে। এবিভিপি-র (ABVP) কয়েক জন সদস্যের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তার ছবিও সামনে এসেছে। তা হলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও কেন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি?

বৈঠকে মূলত ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেন পড়ুয়ারা। ২০ অগাস্ট গভীর রাতে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়। এর মধ্যেই যাদবপুর থানার পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। গত শনিবারই বহিরাগতদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ফুটেজে ধরা পড়া বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

অন্য দিকে, বুদ্ধদেব সাউও পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে পাচারের অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তিনি। বুদ্ধদেবের বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে গিয়েছে। তথ্যপাচারের অভিযোগে রেজিস্ট্রারকে গ্রেফতার করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়েই তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন এবং আবাসনে থাকার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পেরেছিলেন।

নিরাপত্তা প্রশ্নে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের তরফে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির দাবি উঠেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ১৯ অগাস্টের সাধারণ সভার আয়োজনকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পুলিশের হাতে দেওয়ার আগেই কী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছল, সেই প্রশ্নেও তদন্ত দাবি করেছে তারা। অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংসদের বক্তব্য, পুলিশ ফাঁড়ি হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে যাদবপুরের প্রতীক ভাঙা এবং ক্যাম্পাসের কথিত দেশবিরোধী পোস্টার নিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “যাদবপুরের প্রতীক ভাঙার ঘটনা এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা দেশবিরোধী পোস্টারের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে এন আই এ দিয়ে তদন্ত করা হোক।”