'শ্রাবণের মেঘ থেকে যায় অঝোরে আজ আকাশে 
রবির আলো হারিয়ে গেল কোন সে দীর্ঘশ্বাসে।'

আজ বাইশে শ্রাবণ। বাঙালির প্রাণের পুরুষের প্রয়াণ দিবস। রাজ্যজুড়ে শ্রদ্ধায় স্মরণে আজ কবিপ্রণামের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। নিমতলা মহাশ্মশান থেকে শুরু করে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেও রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীরাও বাইশে শ্রাবণ স্মরণ করেছেন। বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রবীন্দ্রসদনে কবির প্রয়াণ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি আজ থেকে আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত রবীন্দ্র গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্য শীর্ষক প্রদর্শনী চলবে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায়। 

রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার আগে বারবার বাংলা বিরোধী তকমা দেওয়া হয়েছিল পদ্মদলের নেতা কর্মী সমর্থকদের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। বিশ্ববরেণ্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'কবিগুরুর অমর সৃষ্টি আজও আমাদের পথ দেখায়। তাঁর কবিতা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও চিন্তাধারা চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে এবং আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।' 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সংস্কৃতি অনুরাগ যথেষ্ট প্রশংসনীয়। তিনি প্রথম থেকেই জানিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার (BJP Government) বাংলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই কারণেই পঁচিশে বৈশাখ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছুটে গিয়েছিলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। আবার বাইশে শ্রাবণের দিনেও বিধানসভায় কবিপ্রণামে অংশ নিতে দেখা গেল তাঁকে। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্মব্যস্ততার মাঝেও রাজ্যের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন শুভেন্দু।