শুক্রবার ককরোচ পার্টির (CJP) সমর্থনে কলকাতায় বামেদের মিছিলে সাংবাদিকরা (Journalist) আক্রান্ত হয়েছেন। নিন্দনীয় ঘটনা। সে নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রবল চিন্তায় রাজ্যবাসী কতখানি আশ্বস্ত হয়েছেন জানা নেই, সাংবাদিককূল বেশ গদগদ হয়েছেন বোঝাই যায়। যথারীতি পোস্টার তৈরি হয়েছে। মিছিল হচ্ছে, হবে। কিছু কিছু বিপ্লবী তো আরজি কর আন্দোলনের সময়ে অরিজিৎ সিংয়ের (Arijit Singh) লেখা ও সুরে গাওয়া
গানটির ভাষায় বলছেন, অনেক হয়েছে...আর কবে, আর কবে?
ডিম ছোঁড়া জনরোষ হলে সাংবাদিক পিটুনিটা নয় কেন?
Sponsored

দেশের কথা পরে হবে, বাংলায় সাংবাদিকরা তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক। যে যখন পেরেছে সাংবাদিকদের গালমন্দ করেছে। যতীন চক্রবর্তী (Jatin Chakraborty) "বেশ্যা" বলেছিলেন। বাম রাজত্বে কোনও খবর অপছন্দ হলেই বলা হতো সাম্রাজ্যবাদের দালাল। আমেরিকার কাছ থেকে পয়সা খাওয়া বাজারি সংবাদ মাধ্যম। তারপর তৃণমূল জমানায় সবচেয়ে খারাপ মন্তব্যটি করেছিলেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Maitra)। বলেছিলেন, দু' পয়সার সাংবাদিক। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন অপ্রিয় প্রশ্ন শুনলেই বলতেন, চটি চাটা সাংবাদিক। প্রত্যেকটি মন্তব্য সাংবাদিকদের মেরুদণ্ডে গিয়ে আঘাত করেছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপমান। কিন্তু বলুন তো, এই মন্তব্যের জবাবদিহি দাবি করে কোনওদিন প্রকাশ্য প্রেস কনফারেন্সে যতীন চক্রবর্তী, মহুয়া মৈত্র বা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করার সাহস দেখিয়েছেন সাংবাদিকরা? বলতে পেরেছেন, আগে মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চান, নইলে বয়কট করা হবে আপনাকে। বয়কট করার দম বা হিম্মত আছে কি সেই সংবাদ মাধ্যমের বা সেই হাউসটির মালিকের? নেই, ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। কেন নেই? সুমনের ভাষায় বলি, প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তর তো জানা...। আর নচির গানের লাইনের ঢঙে তার জবাবও আছে...ভয়, ভয়, ভয়, যদি বিজ্ঞাপন কেটে যায়...!!
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অতীত থেকে আজ পর্যন্ত বার বার মার খেয়েছেন, আহত হয়েছেন সাংবাদিকরা। প্রতিবাদে কী হয়েছে? প্রেস ক্লাব (Press Club) নামে একটি সংস্থা আছে, তার ব্যানারে একটা মিছিল হয়েছে। আর একটা লিখিত প্রতিবাদ পত্র হয়তো ছাড়া হয়। কর্তব্য আর বিপ্লব দুটোই সারা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংবাদ মাধ্যমগুলিই এই প্রেস বিবৃতি চার লাইনের বেশি কখনও ছাপেনি। কারণ কী? পরিস্কার কারণ, বেশি বিপ্লব করতে গিয়ে সরকারি দল যদি অসন্তুষ্ট হয়! যদি বিজ্ঞাপন কেটে দেয়? ফলে কাজ করতে গিয়ে বারবার মার খেয়েও বারাণসীর সাধুবাবা সেজে বসে থাকতে হয়েছে সাংবাদিককূলকে।
সাংবাদিকদের হয়ে সরকারের কান্নাকাটি? পুরোটা মায়াকান্না। বাম আমলে বলা হতো সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা। কিন্তু বাম-বিরোধী সংবাদ করলেই বলা হতো বিক্রী হয়ে যাওয়া সংবাদ মাধ্যম। কারওর কারওর অপছন্দ হলেও তৃণমূল আমলে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সাংবাদিকদের জন্য রেলের পাস করেছিলেন। রাতের কাগজ নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ কাগজের ট্রেন চালু হয়েছিল। কিংবা যৎসামান্য হলেও সাংবাদিকদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপির অবশ্য সে সবের বালাই নেই। তাদের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিরা ন্যাশনাল মিডিয়াগুলির মালিক। ফলে সকলে একসুরে কথা বলে। এ জন্য দেশের মানুষ এদেরকে গোদি মিডিয়া বলে। শুনতে তো হবেই বাছা!
বাংলার একটি মিডিয়াকে সেদিন দেখছিলাম। বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হল। তাদের সে ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ আছে বলে মনে হলো না। তারা তখন ব্যস্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের সম্পত্তি নিয়ে। একবার নয় বার বার দেখিয়েই চলছে! ক্লান্তি নেই, চক্ষু লজ্জাও নেই। তো তাদের দেখে মানুষ যদি গোদি মিডিয়া বলে কটাক্ষ করে, তাহলে গা জ্বালা করলে তো হবে না ভাই!
সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য নাকি একটি ব্যানার আছে, নাম প্রেস ক্লাব। তার কাজ কী? একটা ক্লাব যারা সরকারি দলের ধামাধরা। কাউকে অসন্তুষ্ট করবে না। সন্ধ্যায় সুরা পান আর রাত বাড়লে ফ্রাসটেশনের আখড়া। সাংবাদিকদের কোন উপকারে লাগে ক্লাবটি?
৫ -৭ বছর আগে থেকে সংবাদ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ছাঁটাই। তথাকথিত এক নম্বর সংবাদ মাধ্যমের ঘটনা। দীর্ঘ দিনের কর্মী কার্ড পাঞ্চ করতে গিয়ে দেখেছেন, কার্ড ডিসেবলড। রিশেপসন বলেছে, আপনার চাকরি নেই, হিসেব বুঝে নিন। কর্মী ছাঁটাইয়ে চাকরি চলে যাওয়ায় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। ক'জন সাংবাদিক নিজেদের কাজের নিরাপত্তার দাবিতে জোটবদ্ধ হয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার কথা বলেছেন? দেশ জুড়ে এক লপ্তে ৪৫ শতাংশের চাকরি গিয়েছে একটি হাউসের। কোন বিপ্লবী এর বিরুদ্ধ গলা তুলেছেন? কারা মিছিল বের করেছেন? কোন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এটা অন্যায়? বেসরকারি জুট মিল বন্ধ হলে সরকারের কত কান্নাকাটি। আর সংবাদ মাধ্যম হলে টুঁ শব্দটি নেই! আরে ভাই আমার খবর ঠিকভাবে ছেপো তাহলেই হবে!!
মাস খানেকও হয়নি। দুটি সংবাদপত্রের কথা বলি। একটি থেকে ২৮জন ছাঁটাই, অন্যটি থেকে ৪১জন ছাঁটাই হলেন। যারা বলছে অনেক হয়েছে, তারা নিজেরাও ভুক্তভোগী। আরে কেউ তো সাহস করে বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধুন! কতদিন আর হাওয়ায় ব্যাটিং করে টিআরপি বাড়ানোর ধান্ধায় থাকবেন?
শেষে আর একবার আসি সাংবাদিকদের মার খাওয়ার প্রসঙ্গে। পেশার খাতিরে সাংবাদিকদের সোনাগাছি থেকে সোনমার্গ, সব জায়গাতেই যেতে হয় খবর করতে। হাউসের পলিসি অনুযায়ী কাকে হিরো আর কাকে ভিলেন বানাবে, সেটা ১০০ শতাংশ সাংবাদিকদের হাতে থাকে না। কিন্তু কখনও কখনও তাঁবেদারি করতে গিয়ে হয়কে নয় করা হলে মানুষের ক্ষোভ হওয়াটা স্বাভাবিক। এখন মিডিয়ার নাম করলেই বোঝা যায়, কারা কাদের টেনে সংবাদ পরিবেশন করে। কারা কাদের পারপাস সার্ভ করতে নেমেছে। মাথায় রাখুন, সাংবাদিকরা হাউসের নির্দেশ পালন করেন। একপেশে খবর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ জমতেই পারে। সুযোগ পেয়ে ভিড়ের মধ্যে মারধর করে গায়ের জ্বালা মেটাচ্ছে কেউ কেউ। এটা নিন্দনীয়। মানুষকে বুঝতে হবে সাংবাদিকরা হলেন সংবাদ মাধ্যমটির প্রতিনিধি। যেভাবে বলা হয়, সেভাবে কাজ করেন। এখন যেমন বাংলায় কে কত বড় বিজেপি হতে পারে, তার প্রতিযোগিতা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে হবে। মমতা কিংবা অন্য দলের নেতাদের যে কোনও প্রশ্ন করা যায়, কিন্তু কারওর হিম্মত হয় না বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে,
এক, যিনি নারদা স্টিং অপারেশনে ক্যামেরার সামনে হাত পেতে টাকা নেন, তিনি কোন কাণ্ডজ্ঞানে বলছেন একটা দুর্নীতিগ্রস্তকেও রেয়াত করব না। দুই, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে শুয়োরের... বলেছিলেন শুভেন্দু। একজন সাংবাদিক কি প্রতিবাদ করেছিলেন? শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেছিলেন? তিন, শুভেন্দু যখন কোনও হাউসের সাংবাদিককে চটি চাঁটা বলেন, তখন সে নিয়ে কাদের গর্জন শোনা গিয়েছিল একটু জানতে চাই। এমনকী যে হাউসকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল, সেই বিপ্লবীরাও সক্কলে চুপ ছিল। সেই সঙ্গে আর একটি কথা, অল্প-শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত, অশিক্ষিত সাংবাদিকে ভরে গিয়েছে এ পেশাটি। কারও কারও অশিক্ষার দায় মেটাতে হচ্ছে অন্যদের।
ডিম ছোঁড়াটা যদি নির্লজ্জের মতো আপনারা জনরোষ বলে চালাতে চান, তাহলে সেই জনরোষ ব্যাক ফায়ার করলে এত কান্নাকাটির কী আছে!!
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from মহানগর
View All →
পদ্মপুকুরের জমায়েত থেকেই ধৃত কুণাল-বৈশ্বানর, লালবাজারে হাজির দোলা-ডেরেকরা
1d ago

ধর্মতলা বিক্ষোভে কড়া অবস্থান সরকারের, ৭ মামলায় গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
1d ago

ভোটার তালিকায় নাম নেই প্রাক্তন নির্বাচন কমিশন সচিবের? চারমাসেও মেলেনি শুনানির সুযোগ
2d ago

ককরোচদের সমর্থনে যন্তর মন্তরে যাচ্ছেন মমতা! লোকসভায় তৃণমূলের উপ দলনেতা ঘোষণা
2d ago

উত্তম স্মরণে কেওড়াতলায় শ্রদ্ধার্ঘ্য, জন্মশতবর্ষে রাজ্যের বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
2d ago







