বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফের খবরে শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ঐতিহ্যশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবিভিপির সমর্থকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে শিক্ষামূলক। এরই মধ্যে যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ছিল রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশবিরোধী কোনও কার্যকলাপ করা যাবে না বা স্লোগান সেখানে দেওয়া যাবে না। ক্যাম্পাসে ওঠা বিতর্কিত স্লোগানগুলোর বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে যাদবপুরে 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' স্লোগানের উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এরপরই শনিবার রাতে মুছে ফেলা হল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেওয়ালে লেখা একাধিক স্লোগানের উপর সাদা রঙ করা হয়েছে। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে সৃষ্টি হয়েছে। অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত দেওয়াল লিখন গুলি মুছে দিয়েছে। যদিও বামেদের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
রবিবার সকালে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন দেওয়ালে সাদা রং করা সেখানে মূলত বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ছিল। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কিছু অংশের মধ্যে দেশবিরোধিতা আছে। রেড স্যালুট কিষেণজি এইসব আর চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ভিতরে থাকা বিভিন্ন আপত্তিকর এবং দেশবিরোধী স্লোগান লিখন বা গ্রাফিতি ও পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এরপর দেখা যায় কিছু স্লোগান ঢেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু শনিবার রাতারাতি দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেখানে স্লোগান লেখা ছিল সেগুলি সাদা রঙ করে ফেলা হয়েছে। এই বিষয়ে এবিপিপির মুখপাত্র শুভজিৎ সাহা জানিয়েছেন, যেখানে লং লিভ কমরেড কিষেণজি লেখা ছিল সহ আরো কিছু জায়গা মুছে ফেলা হয়েছে কিনা দেখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যের পরেই এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে আমরা উপাচার্য স্যারের কাছে চাই। যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে মনে হয় আরও কিছু দেওয়াল লিখন মুছে ফেলা হবে। আমাদের বিশ্বাস আগামী দিনে কয়েকজনের মস্তিষ্কের ভিতরে যে কালো রং আছে সেটাও মোছা যাবে।
ক্যাম্পাসের মুক্তচিন্তার ঐতিহ্য বনাম প্রশাসনের কড়াকড়ির এই লড়াইয়ে পরিস্থিতি পরবর্তীতে কোন দিকে মোড় নেয়, তার উত্তর দেবে সময়ই।
















