নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (Trinamool Chhatra Parishad) কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার পদ্মপুকুরে জমায়েতে অংশ নেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Trinamool leader Kunal Ghosh), বিধায়ক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় (Trinamool leader Kunal Ghosh) সহ দলের নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, মিছিলের অনুমতি শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর হাই কোর্টের শুনানির অপেক্ষায় এই জমায়েত করা হয়েছিল। সেই সময়ই পুলিশ আটক করে কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে।
পদ্মপুকুরের জমায়েত থেকেই ধৃত কুণাল-বৈশ্বানর, লালবাজারে হাজির দোলা-ডেরেকরা
Sponsored

২৩ জুলাই কলকাতা পুলিশের কাছে মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পদ্মপুকুর মোড় থেকে সিআইটি রোড (CIT Road) হয়ে মৌলালি মোড় (Moulali Crossing) পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা ছিল। সংগঠনের অভিযোগ, প্রথমে অনুমতি দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা পুলিশ। এরপর মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের (High Court) দ্বারস্থ হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। শনিবার বিকেল তিনটায় বিশেষ বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। জমায়েত চলাকালীনই খবর আসে, হাই কোর্ট মিছিলের অনুমতি দেয়নি। এরপর ওই পরিস্থিতির মধ্যেই আটক করা হয় কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে।
এই কর্মসূচিতে কুণাল ঘোষ বলেন, তাঁদের কর্মসূচি ছিল দেশের স্বার্থে, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যতের স্বার্থে এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ। তিনি বলেন, দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর যেভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন করছিল। কুণালের দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর (Education Minister) পদত্যাগের কোনও ইঙ্গিত ছিল না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আন্দোলনে যোগ দিতে সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন এই খবর সামনে আসার পরই আজ পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসে। গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লিসহ দেশের একের পর এক রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে। পাশাপাশি বাংলার বিধানসভায় বিরোধীদের কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার যুবসমাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাস্তায় নেমেছে এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না। তবে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, এমন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না যাতে অকারণে কারোর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ বা প্রশাসন তাঁদের শত্রু নয়, তারা সরকারের নির্দেশ মেনেই কাজ করছে।
এরপর বক্তব্য রাখেন উপাসনা চৌধুরী (Upasana Chowdhury)। তিনি বলেন, ছাত্রদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে দমন করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। লাঠিচার্জ ও ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার রক্ষার লড়াই থেকেই ছাত্র-যুব সমাজ রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলন কোনওভাবেই থামবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটকের পর তাঁদের লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন (Derek O'Brien) এবং তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন (Dola Sen)। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁরা লালবাজারে (Lalbazar) যান। তবে অভিযোগ, প্রায় ৪০ মিনিটের উপর লালবাজারের বাইরে অপেক্ষা করলেও তাঁদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













