অদ্ভুত দ্বিচারিতা! বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বললেন, “মাত্র আড়াই হাজার লোক নিয়ে বড় বড় কথা।“ ওদিকে আইনভঙ্গের অভিযোগ তুলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। 

কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশ ছিল, তারামণ্ডলের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডের একদিকের লেনে সভা করতে হবে। সভার দিনের ছবি বলে দিচ্ছে অন্যথা হয়নি। কিন্তু তারপরেও তৃণমূল সেই নির্দেশ অমান্য করেছে, এমন অভিযোগ তুলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করল লালবাজার। সভার উদ্যোক্তা এবং আহ্বায়কদের বিরুদ্ধে হেস্টিংস থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাথিড্রাল রোডের দুই লেন জুড়ে তৃণমূল সভায় করায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে নাকি নানা জায়গায় যানজট তৈরি হয়। কিন্তু অন্য লেনটি যে খোলা ছিল গাড়ি চলাচলের জন্য সেই ছবি অধরা নয়। আর যদি বন্ধ হয় তবে সেটাও নিঃসন্দেহে ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। যদিও ঘটনা একেবারেই সেটা নয় কারণ শুভেন্দু অধিকারী নিজে জানিয়েছেন পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে কত কম লোক হয়েছে।

২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে প্রথম থেকেই নানা ধরণের জট ছিল। তৃণমূল ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চাইলেও সেটা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। বিকল্প জায়গায় হিসেবে হাজরা মোড় এবং ব্রিগেড ময়দানের কথা বলা হয়। হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করা যাবে না। শর্ত মেনে তারামণ্ডলের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে সভা করতে পারবে তৃণমূল। কিন্তু এরপরেও পুলিশের অভিযোগ, উদ্যোক্তারা নাকি শর্ত মানেননি। 

অথচ ২২জুলাই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আড়াই হাজা লোক নিয়ে বড়-বড় কথা। আমি একটা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিং করলে, ওর থেকে বেশি লোক  হয়।‘

এদিকে পুলিশ বলছে, ক্যাথিড্রাল রোডের অন্য লেনে বিপুল সংখ্যক কর্মী চলে আসায় দুটি লেনই বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু এরপরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে তবে কী সেদিন পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল? কেন তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেনি। নাকি এই মামলা একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? তৃণমূলের সমাবেশের আয়োজক ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে রাস্তা আটকে সভা এবং আদালত অবমাননার মামলা রুজু হয়েছে।