ক্ষমতায় আসার পর লক্ষ্মীভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। তিন মাসের বেশি সময় হয়ে গেলেও শর্ত ও যোগ্যতার জটিলতায় আবেদনকারী সব মহিলারা এই ভাতা পাননি। ফলে দিকে দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ছাত্র সমাবেশের মঞ্চ থেকে বর্তমান সরকারকে এই ইস্যুতে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেড়ে নিলে আপনাদের ভাণ্ডার খুলে দেব। নাম না করে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দু এবং তাঁর পরিবার সমস্ত রকম সুবিধা নিয়ে গদ্দারি করেছে দলের সঙ্গে। এমনকী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নানান রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েও ক্ষমতায় আসার পর তার এক আনাও পূরণ করেনি। উল্টে ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের মহিলাদের জন্য চালু থাকা সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করেছে জুমলা পার্টি। 

এবার এই নিয়েই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে মহিলাদের দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার যে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আজ সম্পূর্ণ স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পকে কালিমালিপ্ত করতে এবং লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দিতে বিজেপি যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও গর্জে ওঠেন তিনি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের আমলে আপনি পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন। হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আপনার বাবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। দীঘা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাঁকুড়া-মেদিনীপুর সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিন নয়তো আপনার ভাণ্ডার খুলতে দিন। আমি চাইলেই অনেক কিছু বলতে পারি। কিন্তু আমি এতটা নো লেভেলে পলিটিক্স করি না। আমি এতদিন কিছু বলিনি সবাইকে সম্মান দিয়েছি। আপনারা চুরি করেছেন সম্মান দেখাবেন কীভাবে। কিন্তু কাউকে সম্মান করতে না পারেন— অসম্মান করবেন না। 

এর আগেও নেত্রী দাবি করেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস তিনি দিয়েছেন। জানিয়েছিলেন, যারা অন্নপূর্ণা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাঁদের নাম, ঠিকানা, বুথের নাম, কী কাজ করেন তার লিস্ট পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সংগ্রহ করতে আগামী দিনে নিশ্চয়ই কোনও ব্যবস্থা করা হবে যার মধ্যে দিয়ে এই তথ্য জোগাড় করা হবে।