আবাসন প্রকল্প তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কোনও নথি নেই। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তেও নির্মাণের বৈধতার পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থা। রাজারহাটের (Rajarhat) ‘অ্যাকোয়া গলফ ভিলা’ (Aqua Golf Villa) নিয়ে এমনই তথ্য সামনে আসার পর প্রকল্পটি বেআইনি বলে ঘোষণা করল কলকাতা হাই কোর্ট (High Court)। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (Justice Shubhra Ghosh)।
মামলাটি করেন অবসরপ্রাপ্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন অ্যাশলে ব্রায়ান হায়ামস (Retired ship captain Ashley Brian Hyams)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে এম/এস গ্রিনটেক আইটি সিটি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্পে AGV-19 নম্বর ভিলাটি কেনার চুক্তি করেছিলেন তিনি। দাম ছিল ১.৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৭৮ লক্ষ টাকার বেশি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। কথা ছিল ২০১৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে ভিলার দখল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দখল পাননি তিনি। এরপর প্রকল্পটির সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা জানতে আরটিআই করেন।
সেই আবেদনের উত্তরে যে তথ্য মেলে, তাতে প্রকল্পটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, রাজারহাট পঞ্চায়েত সমিতি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ কোনও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। WBRERA-তেও প্রকল্পটির রেজিস্ট্রেশন ছিল না। পরে রাজারহাটের বিডিও-র তৈরি তদন্তকারী দলও জানায়, নির্মাণের প্রয়োজনীয় অনুমতির কোনও নথি ডেভেলপার সংস্থা দেখাতে পারেনি। চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আদালতে জানান, প্রকল্পটির জন্য পঞ্চায়েত কোনও অনুমোদন দেয়নি। পাশাপাশি, ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালে চলা সমান্তরাল মামলায় ডেভেলপারের তরফে পেশ করা অনুমোদন পরিকল্পনা ও সমাপ্তি শংসাপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী।
এই সমস্ত নথি ও বক্তব্য পর্যালোচনার পর হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত, ‘অ্যাকোয়া গলফ ভিলা’ অনুমোদনহীন এবং বেআইনি। সেই কারণেই প্রকল্পটি আর রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে চার সপ্তাহের মধ্যে আইনানুগ পদক্ষেপ করে পুরো প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।















