এনআরএসে (NRS) নার্সের মৃত্যুরহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। ৩৬ ঘণ্টা পরেও কাটল না ধোঁয়াশা। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ নেই ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও। খুন নাকি আত্মহত্যা? ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে খুন, নাকি ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে নিজেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন রুপালি বর্মন তার কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি পুলিশ। যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, কেন তিনি আত্মঘাতী হলেন? আরজি করের পর আরও একটি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে এতবড় ঘটনা ঘটে গেল, তার পরও কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। আপাতত প্রশাসন এই বিষয়ে নীরব।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে গঠিত হয়েছে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তার মাথায় রয়েছেন ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান। তিনি আগামী ৭ দিনের মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেবেন। কিন্তু পুলিশি তদন্ত কী বলছে? কোথা থেকে এল ইঞ্জেকশন ভায়াল? সিসিটিভি ফুটেজ কেন সামনে আনা হচ্ছে না? নার্সের রহস্যমৃত্যুতে গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের অ্যান্টি নেটাল ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১২ অগাস্ট সন্ধে ৭টা থেকে ১৩ অগাস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ফুটেজে কী দেখা গেছে, তা লিখিত আকারে পাঠাতে হবে স্বাস্থ্যভবনে। অবিলম্বে তা প্রকাশ করতে হবে। রুপালি বর্মন যে শিফটে কর্তব্যরত ছিলেন, সেই শিফটের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বয়ান নেওয়া হবে। কিন্তু সবার উপস্থিতিতে কোথা থেকে ইঞ্জেকশনের ভায়াল নিয়েছিলেন রুপালি? কেন নিয়েছিলেন? ভায়াল নেওয়ার সময় কোনও রেজিস্টার মেন্টেন করা হয়েছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। নার্সের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ডে ২ কনস্টেবল মোতায়েন ছিলেন, তাঁরাও কেন টের পেলেন না? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধের প্রয়োগের ফলেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ফরেন্সিক পরীক্ষার পরেই স্পষ্ট হবে রুপালির মৃত্যুর কারণ। কী ছিল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে? রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে চোখের সাদা অংশের পাশাপাশি নখ-জিভের একাংশ নীলচে হয়ে গিয়েছিল রুপালির। শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। আত্মহত্যা হলে প্রশ্ন, কীভাবে দুই কনুইয়ে ছুঁচ ফোটার চিহ্ন? রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে অচৈতন্য করার ফেন্টানিল, মিডাজোলামের ভায়াল মেলায়। তার থেকেও বড় কথা, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ নেই কীভাবে মৃত্যু হল রুপালির। ফরেন্সিক-প্যাথলজি রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন চিকিৎসকেরা। তার পরেই জানা যাবে মৃত্যুর কারণ।
এই ঘটনায় তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, এনআরএসে নজরদারি কোথায় ছিল? মৃতা নার্সের পরিবার থেকে আবেদন করা হয়েছে এনআরএসে যেন ময়নাতদন্ত না হয়। কেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত চাইছে পরিবার? অবিলম্বে এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা উচিত। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, অভয়ার সময় যাঁরা মোমবাতি নিয়ে নেমেছিলেন তাঁদেরকে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তৃণমূল তখনও প্রতিবাদ করেছে, এখনও প্রতিবাদ করছে। অভয়ার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক। সব ঠিকঠাক রয়েছে কোনও ম্যানুপুলেশন নেই বলেও দাবি করেছিলেন তাঁরা। তাঁরা উই ওয়ান্ট জাস্টিসেও এসেছিলেন। ফলে যাঁদের সই আছে, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে ১৬৪ করানো হোক।















