কলকাতা শহরে যত্রতত্র পার্কিং নিয়ে কঠোর মনোভাব নিচ্ছে রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতার পার্কিং ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। শহরের বৈধ পার্কিংগুলিকে নতুন করে চিহ্নিত করে সেগুলির পরিচালন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত পার্কিংয়ের বাইরে গাড়ি রাখলে জরিমানা এবং প্রকাশ্যে ময়লা বা থুতু ফেললেও আর্থিক দণ্ডের প্রস্তাবের কথা জানালেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

 

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতা পুরসভা এলাকার এলাকা বিন্যাসের কাজ শুরু হবে। সেই সঙ্গে শহরের পার্কিং ব্যবস্থা আধুনিকীকরণে পুলিশ ও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর যৌথভাবে কাজ করছে।

 

মন্ত্রী জানান, কলকাতা পুরসভা এলাকায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার বৈধ পার্কিং চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পার্কিংগুলির জন্য নতুন করে দরপত্র ডাকা হবে। নির্বাচিত পার্কিং কর্মীদের পরিচয়পত্র ও নির্দিষ্ট পোশাক দেওয়া হবে, যাতে পার্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

 

শহরের পার্কিং ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করবে রাজ্য সরকার। ওই অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে পার্কিং ফি দেওয়া যাবে। পাশাপাশি শহরের কোথায় পার্কিং খালি রয়েছে, সেই তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে।

 

মন্ত্রী জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত পার্কিংয়ের বাইরে কোনও গাড়ি রাখা হলে জরিমানা করা হবে। এই জরিমানা আদায়ের দায়িত্ব থাকবে পুলিশের উপর। বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় বেশি হবে বলেও জানান তিনি।

 

অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, শহরে এমন প্রায় চার হাজার পার্কিং রয়েছে, যেখান থেকে বর্তমানে সরকারের কোনও রাজস্ব আসে না। ইতিমধ্যেই সেগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ওই পার্কিংগুলির ক্ষেত্রেও নতুন করে দরপত্র ডাকা হবে, যাতে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।

 

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে ময়লা বা থুতু ফেললেও জরিমানা করা হবে। মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে পুলিশের মাধ্যমেই জরিমানা আদায়ের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

 

শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গেও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। রুবি এবং ডালহৌসি এলাকায় পথচারীদের সুবিধার জন্য দুটি পদচারী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যানজট কমাতে মা উড়ালপুলের পরে আরও একটি নতুন উড়ালপুল নির্মাণের ভাবনা রয়েছে, যা কলকাতার সঙ্গে নিউ টাউন-রাজারহাটের যোগাযোগ আরও সহজ করবে বলে জানান তিনি।