অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে বুধবার একদিকে যেমন আদালতে জমি দুর্নীতির মামলার শুনানি চলল, তেমনই অন্যদিকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে হাজিরার নোটিশ দিল পুলিশ। বিকেলে টালিগঞ্জের মহাবীরতলায় সুমিতের বাড়িতে গিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ তাঁকে তিন দিনের মধ্যে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও কোন মামলায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি তোলাবাজির অভিযোগের তদন্তের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ।
হাই কোর্টে এদিন সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য জানায়, জমির রেকর্ডে কারচুপির অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সরকারি পক্ষের দাবি, ‘‘বিএলআরও অফিস থেকে কারচুপি হয়েছে। তার পর সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। তদন্ত এখন যথার্থ পর্যায়ে রয়েছে। সুমিত রায় বেনিফিসিয়ারি।’’ তদন্তকারীদের আরও বক্তব্য, অভিযুক্ত সুজয় হাজরা সুমিতের নির্দেশেই একাধিক কাজ করেছেন এবং সরকারি কর্মীদের উপরও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, ‘‘ভুয়ো কাজ করা হলে কেউ তো অভিযোগ জানাতে আসেনি। সিআইডি ৯ তারিখে ক্যামাক স্ট্রিটে তল্লাশি চালিয়েছে কিছু পায়নি। ৬ তারিখে তদন্ত শুরু হয়। সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করে বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। দু’জন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের বয়ান নেওয়া হয়েছে যাঁদের ভোটের পরে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল তল্লাশির সময়। কিছু ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ তো আছে। সুজয়ের মোবাইল তো ওঁর কাছেই আছে। চ্যাট দেখুক।’’ আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বৃহস্পতিবার। ততদিন পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারিমূলক কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির অভিযোগের তদন্তে সুমিত রায়ের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমির রেকর্ড বদলে তা বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সুমিত রায়ের পক্ষ। এদিন পুলিশ বাড়িতে পৌঁছলে তাঁর খোঁজ জানতে চাওয়া হলে সুমিতের মা বলেন,‘‘জানি না। মাটি খুঁড়ে বার করুন। বিজেপি ওকে ফাঁসাচ্ছে।’’















