এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে (NRS Medical College) নার্স রূপালী বর্মনের (Nurse Rupali Barman) অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত। মৃত্যুর নেপথ্যে হাসপাতালের ভিতরের কোনও সমস্যা, কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরফে গঠন করা হয়েছে বিশেষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন হাসপাতালের প্রিন্সিপাল, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান, সাফাইকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বিভাগীয় প্রধানরা। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরের ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশনের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের ডিডি হোমিসাইড স্কোয়াড।
এনআরএসে নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে বিশেষ কমিটি, খুনের অভিযোগ পরিবারের
Sponsored

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Health Minister Sharadwat Mukhopadhyay) জানান, মঙ্গলবার রাতে আনুমানিক ৯টা নাগাদ রোগীকে প্রাথমিক পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান রূপালী। বেশ কিছুক্ষণ পরেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় গ্রুপ-ডি কর্মীদের সাহায্যে দরজা ভেঙে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনুমানে চলি না, বিজ্ঞানে চলি। অনুমানের কোনো জায়গা নেই। দয়া করে সংবাদমাধ্যম কোনো অনুমানের অবকাশ রাখবেন না।”
মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “কেন মারা গেলেন? কিভাবে মারা গেলেন? মারা যাওয়ার সময়ে কি কি ঘটনা ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর তো পুলিশ দেবে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেবে।” কিন্তু পরিবারের অভিযোগ রূপালী বর্মনকে খুন করা হয়েছে। তাই পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এনআরএসে নয়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রূপালীর স্বামী রাহুল দাস দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকেন। মৃতার আদি বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানার দক্ষিণ খন্দা, প্রতাপদিঘি এলাকায়।
তবে কর্মক্ষেত্রে রূপালীর কোনও সমস্যা বা মানসিক চাপ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তাদের কিছু একটা মানসিক প্রেশার থাকতেই পারে।” সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে স্বাধীন অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “খুব ওয়েল-ব্যালেন্সড কমিটি তৈরি করা হয়েছে।” কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার পরই ঘটনাস্থল সিল করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম কুনাল আগরওয়াল (Additional CP (Crime) Kunal Agarwal) বলেন, “ইমিডিয়েটলি যা যা স্টেপস আছে, যে সিন অফ ক্রাইম আছে সেটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। আর এখন পোস্টমর্টেম করা হবে। এখন বাকি যে ইনভেস্টিগেশন আছে, অলরেডি আমাদের ডিডি হোমিসাইড স্কোয়াড যারা আছে ওরা অলরেডি টেক ওভার করেছে।” ঘটনাস্থল থেকে রূপালী যে ট্রলিতে ছিলেন, সেই ট্রলি, মসলিনের বস্তা এবং স্ট্রেচার-সহ একাধিক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, “তিনটে সিন অফ ক্রাইম সিল করা হয়েছে।”
শৌচালয় থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছে, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না পুলিশ। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করবে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আপাতত কিছু পায়নি বলেই জানিয়েছে। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা ইনকোয়েস্ট ও ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
আগের দিন ডিউটির সময় রূপালীর সঙ্গে কোনও ঝামেলা বা সমস্যা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ নিয়ে অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। ফলে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেও নজর রয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













