ধর্মতলায় (Dharmatala) ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে (Sreelekha Mitra) ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির (BJP) অভিযোগ, আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Prime Minister Narendra Modi) অবমাননাকরভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের মুখপাত্র কেয়া ঘোষ (Spokesperson Keya Ghosh) আনন্দপুর থানায় (Anandapur Police Station) অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই অভিযোগ পৌঁছেছে বিধাননগর সাইবার থানা (Bidhannagar Cyber ​​Police Station) সহ আরও কয়েকটি থানাতেও।

গেরুয়া শিবিরের দাবি, আন্দোলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে, যা জনসমক্ষে আপত্তিকর বার্তা ছড়িয়েছে। কেয়া ঘোষের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে শ্রীলেখা মিত্র যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি অভিনেত্রীকে তথাকথিত 'টুকরে গ্যাং'-এর অংশ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৫২, ৩৫৩ এবং ৩৫৬ ধারা। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ধারার আওতায় সম্মানহানি, উসকানিমূলক প্রদর্শন এবং মানহানির অভিযোগ প্রযোজ্য। এছাড়া সংবিধানের ১৯(১)(২) ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তা আইনের নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে পারে না।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে জামিন-অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারের আবেদনও জানানো হয়েছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ শুনে শ্রীলেখা মিত্র বলেছেন, বিতর্কিত পোস্টারটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে নেননি। আন্দোলনের ভিড়ে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের লাঠিচার্জের সময় তিনিও ছাত্রদের সঙ্গে ছুটছিলেন। সেই সময় তিনি সানগ্লাস পরে থাকায় পোস্টারে কী ছিল, তা তাঁর নজরে আসেনি। বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও, সেই কারণেই তাঁকে দেশবিরোধী বা প্রধানমন্ত্রীকে অপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেই দাবি করেছেন অভিনেত্রী। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁকে যদি গ্রেফতার করা হয় বা ফাঁসি দেওয়া হয় হোক। তবে তারপর আবারও একটা আন্দোলন হবে। এটা তিনি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক এখন ক্রমশ বাড়ছে।