পশ্চিমবঙ্গের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হল রাজ্যের প্রথম অটল ইনকিউবেশন সেন্টার (AIC Techno)। নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশনের (AIM) সহায়তায় গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রের লক্ষ্য নতুন উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের হাতে-কলমে সহায়তা দিয়ে তাদের ভাবনাকে সফল ব্যবসায় রূপ দেওয়া। শনিবার কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান ড. অশোক লাহিড়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিফ ইনোভেশন অফিসার তথা AIC Techno র চিফ মেন্টর মেঘদূত রায়চৌধুরী সহ নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশনের প্রতিনিধিরা।
আগামী পাঁচ বছরে ৫০০-রও বেশি স্টার্টআপকে ইনকিউবেট করার লক্ষ্য নিয়েছে AIC Techno। উদ্যোক্তাদের জন্য মেন্টরশিপ, ব্যবসায়িক পরামর্শ, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, তহবিল সংগ্রহে সহায়তা, পণ্য যাচাই, বাজার সম্প্রসারণ, আইনি ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত পরামর্শ, কর্পোরেট অংশীদারিত্ব, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মতো একাধিক পরিষেবা এক ছাতার তলায় দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার আগেই প্রায় ২০০টি স্টার্টআপের আবেদন জমা পড়েছে।

মেঘদূত রায়চৌধুরী জানান, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্তরের ইনকিউবেশন পরিকাঠামোর অভাব ছিল। AIC Techno সেই শূন্যতা পূরণ করবে। উদ্যোক্তাদের সঠিক পরামর্শ, আধুনিক পরিকাঠামো, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ এবং মূলধনের সুযোগ করে দিয়ে আগামী দিনে রাজ্যকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টার্টআপ হাবে পরিণত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ড. অশোক লাহিড়ী বলেন, উদ্ভাবন ও উদ্যোগই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম অটল ইনকিউবেশন সেন্টারের সূচনা রাজ্যের উদ্ভাবন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ করে দেবে।

স্টার্টআপ ইনকিউবেশনের পাশাপাশি AIC Techno ইতিমধ্যেই নিজেদের মূল টিম গঠনের কাজও শুরু করেছে। ইনকিউবেশন, অপারেশনস, ফিন্যান্স, লিগ্যাল, পার্টনারশিপ, ইনভেস্টমেন্ট, প্রশাসন এবং ল্যাব ও মেকারস্পেস পরিচালনার মতো বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই এই কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য।















