কবি জয় গোস্বামীকে যেভাবে রবীন্দ্রসদনের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে অবাক তসলিমা নাসরিন। এমনকী ঘটনায় নিজের অখুশির কথাও ঢেকে রাখলেন না। অকপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন, যাদের সঙ্গে আমি মঞ্চে বসেছিলাম, তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে আমি সহমত নই জেনেও বসেছিলাম। অসুবিধা কোথায়! যে যার নিজের মতটা বলবেন। এটাই তো দস্তুর।
কী ঘটেছিল শনিবার রবীন্দ্রসদনের মঞ্চে। মঞ্চ থেকে তসলিমা এদিন কবি জয় গোস্বামীকে ডেকেছিলেন। জয় মঞ্চে উঠতে যেতেই দর্শকদের একাংশ থেকে আওয়াজ ওঠে। নামিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। জয় মঞ্চের একদিক দিয়ে উঠে আবার অন্য দিক দিয়ে নেমে যান।
তসলিমা বলেন, আমি তো ওনাকে ডেকেছিলাম। মঞ্চে বসে থাকা মানুষজনের বিশ্বাস যেমন আমার থেকে ভিন্ন, তেমনি জয় গোস্বামীও মতামতে ভিন্ন জেনেও ডেকেছিলাম। বিশিষ্ট কবি। বাংলা ভাষার বড় কবি। ভালবেসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। আমাকে বই উৎসর্গ করেছেন। আমি ভিন্ন মতের জেনেও আমাকে বই উৎসর্গ করেছেন। উনি মঞ্চে থাকলে খুশিই হতাম।
তসলিমা রবীন্দ্রসদনে রাখা নিজের বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেছেন, ভিন্ন মত হলেও তাকে বলতে দিতে হবে। মঞ্চে বসে থাকা মানুষজন যে রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী, তা তো আমি নই! কিন্তু আমি বসেছি। আমি আমার কথা বলেছি। আমি অন্য রাজনীতিতে বিশ্বাসীর সঙ্গে বসতে পারি, মতামত আদান প্রদান করতে পারি। আমার বিশ্বাসকে অটুট রেখেও এই মনোভাব দেখাতে পারি। এর জন্য নিজের বিশ্বাস বিলিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। চেয়েছিলাম আমার অনুষ্ঠানে লেখক, কবি সাহিত্যকরা থাকবেন। তাঁরা ভিন্ন মতের মানুষ ছিলেন বলে আমার এতটুকুও অসুবিধা হয়নি।
জয় গোস্বামীর ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে শনিবার দেখিয়ে দিয়েছে, এই রাজ্য এখনও ভিন্ন মতকে মর্যাদা দেওয়ার উন্নততর মানসিকতা ও বিশ্বাসে পৌঁছতে পারেনি। রাজনৈতিক সংকীর্নতাই এখন বাংলার রাজনীতিতে দস্তুর।















