যাদবপুর বিধানসভা এলাকার একাধিক ওয়ার্ডে রাতভর হামলা, ভাঙচুর ও দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন বিধায়ক থেকে শুরু করে পুরপ্রতিনিধির বাড়ি— বাদ যায়নি কিছুই। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকালে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস। 

শনিবার রাতে ৯৬, ৯৭, ১০১, ১০৯ এবং ১১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ, ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়গড়ে যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত (মলয়) মজুমদারের বাড়িতে প্রায় একশো জন দুষ্কৃতী চড়াও হয়। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের উপর শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। রেহাই পাননি তাঁর বৃদ্ধা মা ও দাদাও। দেবব্রতবাবু বলেন, সারাজীবনের রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা দেখিনি। হামলাকারীরা সকলেই বিজেপি কর্মী, কয়েকজনকে চিহ্নিতও করা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় দুই বিজেপি নেতার নেতৃত্বে এই আক্রমণ হয়েছে এবং পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত দলীয় দফতর না খোলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

একই রাতে ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সীমা ঘোষের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুঠপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে। সেখানে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের মারধর ও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়া আনন্দপল্লি, বিজয়গড় ও বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ চারটি তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হামলা হয়েছে প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি বসুন্ধরা গোস্বামীর দলীয় দফতরেও। 

তৃণমূলের তরফ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে অনেক দেরি করে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, যাদবপুরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। মুখে কাপড় বেঁধে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। বাম কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

হামলার প্রতিবাদে শনিবার গভীর রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের একাংশ। এরপর রবিবার সকালে বিজয়গড় থেকে গাঙ্গুলিবাগান পর্যন্ত এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে পা মেলান দেবব্রত মজুমদার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, তপন দাশগুপ্ত, উপাসনা চৌধুরী ও বসুন্ধরা গোস্বামীরা। তৃণমূলের আইটি সেলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরী জানান, তাঁরা তালা ভেঙে দলীয় কার্যালয়গুলি ফের খুলেছেন এবং আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার আরও বৃহত্তর মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল।