তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একুশে জুলাই কর্মসূচি উপলক্ষে বুধবার রাজপথে মহামিছিলের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP), যুব তৃণমূল কংগ্রেস, আইটি সেলের কর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে। দলনেত্রী স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।আদালতের (calcutta high court) নির্দেশ মেনে বুধবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলিতে কলকাতার রাস্তায় মিটিং মিছিল না করার যে নীতি চালু করেছে রাজ্য সরকার (Govt of West Bengal), তাকে নস্যাৎ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে মহানগরীতে শর্তসাপেক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচি করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Sougata Bhattacharya) বেঞ্চ জানায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অধিকারের দাবিতে দেশের যেকোনও মানুষের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। আদালত এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তবে তৃণমূলকে বেশ কয়েকটি নিয়ম মানতে হবে। যেমন সাড়ে চারটের মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে, সর্বোচ্চ এক হাজার মানুষ থাকতে পারবেন, রাস্তার এক ধার দিয়ে হাজরা পর্যন্ত মিছিল যাবে এবং শুধুমাত্র হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করা যাবে। অতীতে বারবার দেখা গেছে বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম আমলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন। আবার প্রশাসক হিসেবে যখন রাজ্য চালিয়েছেন তখনও কেন্দ্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করতেও বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ - খুনের ঘটনার (Baruipur Minor Rape Murder case) প্রতিবাদে সোমবারও মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
জোড়াফুল শিবিরের তরফে বলা হয়েছে যে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাই উপলক্ষে রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে কলকাতা পুলিশের (KP) কাছে মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু মিছিল শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতা পুলিশ সেই অনুমতি বাতিল করে দেয়।পরবর্তীতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত রেখে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের নজরে আনা হয় এবং আদালত মিছিলের অনুমতি দেওয়ায় বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল হবে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই প্রথম এত বড় মিছিলের অনুমতি পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ড থেকে শুরু করে হকার উচ্ছেদের মতো একাধিক ইস্যুতে আজ দুপুরে মহানগরীর রাস্তায় গর্জে উঠবেন ঘাসফুলের নেতা-কর্মী- সমর্থকরা, মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।















