Site Logo

নাগরিকত্ব হরণের চেষ্টার প্রতিবাদ: রাসবিহারীর সভায় বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ গণমঞ্চ-একতা মঞ্চ

EBBS Desk·
নাগরিকত্ব হরণের চেষ্টার প্রতিবাদ: রাসবিহারীর সভায় বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ গণমঞ্চ-একতা মঞ্চ

বাঙালির নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে ফের সরব হল নাগরিক সমাজ। শনিবার দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারীতে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এবং ‘বাংলা একতা মঞ্চ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশিষ্টজনেরা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও বিনোদন জগতের একঝাঁক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ কার্যত বিজেপি-বিরোধী গণপ্রতিরোধের রূপ নেয়।

Sponsored

Sranchi In Article

বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে বাঙালির বৈধ ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ‘সার’ (SAR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাকে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ হিসেবেই দেখছেন সংগঠনের সদস্যরা। এ দিন রাসবিহারীর মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন যতদিন না বাঙালির ভোটাধিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন এই প্রতিরোধ আন্দোলন চলবে।

সভায় উপস্থিত অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে। তিনি বলেন, “কে নাগরিক আর কে নাগরিক নন, তা বিচার করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। তাদের একমাত্র দায়িত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে পরিচালনা করা।” একই সুর শোনা যায় সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের গলায়। সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মীরা কীভাবে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তা নিয়ে সরব হন তিনি। ইন্দ্রদীপবাবুর স্পষ্ট বক্তব্য, “এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।”

মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র তথ্যের সাহায্যে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। বিশিষ্ট অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরীন অভিযোগ করেন, ‘সার’-এর মূল লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও মহিলারা। অন্যদিকে, সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, “নির্বাচন কমিশন দেড় কোটি অনুপ্রবেশকারীর কথা বললেও আজ পর্যন্ত একজনের নামও দেখাতে পারেনি। এই গোটা প্রক্রিয়াই আসলে বাঙালিকে হেনস্থা করার চক্রান্ত।”

আইনজীবী অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে ‘ব্রিটিশের দালাল’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, রক্ত দিয়ে হলেও বাঙালি নিজের ভোটাধিকার রক্ষা করবে। এ দিনের সভায় হরনাথ চক্রবর্তী, দেবজ্যোতি বোস, সুদেষ্ণা রায়, সৈকত মিত্র-সহ শহরের বহু বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুশান রায়।

দুই নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, ঘুরপথে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা রুখে দিতে হবে। নাগরিকত্ব নিয়ে টালবাহানা বন্ধ না হলে আগামী দিনে সমগ্র বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এই প্রতিবাদী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হরনাথ চক্রবর্তী, রন্তিদেব সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজাত ভদ্র, সৈকত মিত্র, সাইয়েদ তানভীর নাসরিন, শোভন সুন্দর বসু, চিত্রা বসু, সুমন সেনগুপ্ত, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা রায়, পিয়া চক্রবর্তী, মতুয়া বন ইলা পাগলি, দেবজ্যোতি বসু (টনি দা), সোমা চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়, রাহুল চক্রবর্তী, বিবান ঘোষ, এলফিনা মুখোপাধ্যায়, অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়, শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ, বর্ণালী মুখোপাধ্যায়, রাহুল বর্মণ, মারুফ হোসেন, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, সুমন ভট্টাচার্য, সিদ্ধব্রত দাস, সুশান রায়, প্রিয়জিৎ মিশ্র, নাজমুল হক, অমিত কালি, সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। প্রমুখ। এই প্রতিবাদ সভাটির সঞ্চালনা করেন দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের অন্যতম সদস্য সুশান রায়।

আরও পড়ুন- লাভপুরে সভা সেরে সতীপীঠে অভিষেক, ফুল্লরা মন্দিরে পুজোতে ভিড়ের ঢল

_

_

_

_

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from মহানগর

View All →