যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে (Jadavpur University) ঘিরে ‘কী ধরনের মানসিকতা তৈরি করা হচ্ছে’ এই প্রশ্ন তুলেই নজরুল মঞ্চ থেকে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুরের শিক্ষাঙ্গনে এমন এক রাজনৈতিক ভাবধারার প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরম্পরার থেকে দূরে সরিয়েছে নতুন প্রজন্মকে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বিশেষভাবে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের দেওয়ালে লেখা ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’। বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেন্টার ফর এক্সেলেন্স, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কলাবিভাগের দেওয়ালে লিখবেন রেড স্যালুট কিষেনজি? কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে?” তাঁর বক্তব্যে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করেই শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে বিতর্কের প্রশ্ন উঠে আসে। এবিভিপি বনাম এসএফআই, জুটা, ফেটসুর মধ্যে তুমুল হাতাহাতি, বাকবিতণ্ডার পর মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘‘যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। সবাইকে বন্দে মাতরম গাইতে হবে।”

এর সঙ্গে ‘আজাদি’ স্লোগানকেও একই পরিপ্রেক্ষিতে রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, “যাদবপুরের দেওয়ালে কিষেণজি স্যালুট স্লোগান কেন? কিসের আজাদি? নতুন প্রজন্মকে কী শেখাচ্ছেন?” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে এই ধরনের স্লোগানকে স্বাভাবিক করে দেখা যায় না।

সেই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের বাইরে তো শত্রুরা আছে। দেশের ভিতর থেকে আমরা খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি কলকাতার রাস্তায় আজাদি, আজাদি। কীসের আজাদি ভাই? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজির লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান মনে রাখতে হবে। আমরা তো ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পেয়েছি।” তাঁর বক্তব্যে এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের প্রসঙ্গও বিশেষভাবে উঠে আসে।

যাদবপুরের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাসও জুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “যাদবপুরে বিদেশি প্রভাব যুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল। যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি থাকত না। যারা একসময় নেতাজি, কবিগুরুকেও আক্রমণ করেছিল।” তাঁর অভিযোগ, সেই সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছিল।

কাশ্মীরের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যে কাশ্মীরের জন্য আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের এত যুদ্ধ, লড়াই। আর আপনি কলকাতার রাস্তায় কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি লিখবেন? এ খুব পীড়াদায়ক।” সব মিলিয়ে, যাদবপুরের দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এদিন শুধুমাত্র একটি স্লোগানের বিরোধিতায় থেমে থাকেনি। শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক প্রভাব, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধের ধারণা এবং নতুন প্রজন্মের সামনে কোন মূল্যবোধ তুলে ধরা হচ্ছে সেই বৃহত্তর প্রশ্নেই বামেদের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।