একজন মূলত সিরিয়াল অভিনেত্রী। অন্যজন মূলত বড় পর্দার অভিনেতা। অভিনেতা জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত। এবার অভিনেত্রী-বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে নাম না করে কটাক্ষ অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের। 

 

যাদবপুরে দিদিগিরি করে এক রাতে বেশ নাম-ডাক কামিয়েছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এবিভিপির ছেলেপুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন। সবচেয়ে লজ্জাকর হল তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেমটিও ভেঙেছেন। আগে কখনও যা ঘটেনি। যা দেখে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও বলতে বাধ্য হয়েছেন, এটা লজ্জার। কিন্তু লজ্জা বিধায়কের কোথায়? 

 

বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমকে শাসিয়েছেন, সিপিএমের সৃজন ভট্টাচার্যকে হুমকি দিয়েছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বলেছেন দেশবিরোধী ও টুকরে টুকরে গ্যাং। এক্কেবারে মার্কামারা বিজেপি নেত্রীর বেশে সফল বিধায়ক। 

 

রাজনৈতিক আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছেন শর্বরী। কিন্তু যে অভিনয়ের কারণে তিনি পরিচিত, সেই জগতের এক হাঁটুর বয়সী অভিনেতা তাঁকে এভাবে কষে কটাক্ষের থাপ্পড় মারবেন তা কেউই ভাবেননি। কৌশিক সেনের পুত্র ঋদ্ধি তৃণমূল আমলেও তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেছেন টালিগঞ্জের অভব্যতায়। এবার যাদবপুরে গিয়ে শর্বরীর কাজ কর্ম দেখে করলেন জব্বর একটা পোস্ট। 

 

কী লিখলেন ঋদ্ধি? লিখলেন, 'সবে সবে ভোটে জিতলে গলার আওয়াজ বাড়ে বৈকি, ভোটের মার্জিনের সাথে সাথে চিৎকারের মার্জিনও বাড়ে, বাড়ে বাজে কথাও! বিশেষ করে সেই পরিস্থিতিতেই এমনটা হয়, যখন জয়ী প্রার্থী জানেন যে কাজ বা পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই জয় ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁর নেই।' শর্বরী বেশ ভাল ভোটেই জিতেছেন। এবং মনে করছেন এলাকা তাঁর দখলে। মানুষ তাঁকে ভয় করবে, সমীহ করবে। এর আগে একটি দোকান না ফ্ল্যাট নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এবার সোজা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, এবিভিপি বিজেপির কেউ নয়। তাহলে তাদেরই সঙ্গে কেন আপনার দলের বিধায়ক। তাদের গুন্ডামির কারণে দু'চার ঘা পড়তেই কেন সৃজনকে শাসালেন? কেন এক ধর্ষককে ছাত্র বানিয়ে সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেন। ঋদ্ধি যথার্থই বলেছেন, উনি জানেন, কাজ করে দ্বিতীয়বার ফিরতে পারবেন না। তাই টেরর রাজনীতি! লিখলেন, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ধরে রাখার পরিবর্তে চিৎকার এবং ঘৃণা উস্কে দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। শাক দিয়ে যে কোনও দিন মাছ ঢাকা যায় না।

 

শর্বরীকে কার্যত নিম্নমানের রাজনৈতিক অভিনেতা বললেন ঋদ্ধি। তারস্বরে চেঁচিয়ে উল্টোপক্ষকে দমিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, আপাতত কিছুদিন অভিনয়টা আর একটু মন দিয়ে করতে হবে। সাজপোশাক ঠিক থাকলেও ‘vocal modulation’ বা গলার স্বরের ওঠানামার দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় লাগাতার উঁচু স্বরে কথা বললে তা শুনতে একঘেয়ে লাগে।

 

শর্বরীর সমস্যা হলো,  একবারও ঋদ্ধি তাঁর নামটি করেননি। নাম নিতে ঘৃণাবোধ করলেন, নাকি তিনিও বুঝিয়ে দিলেন, ক্যামেরার সামনে নাটক না করেও "সামাজিক বেত্রাঘাত" করা যায়। এটাই হলো আসল শিক্ষা!!