মৌমিতা পণ্ডিত। অভিনেত্রী। কিন্তু এখন খবরে। প্রয়াত অভিনেতা রাহুলের (Actor Rahul) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন নিজেই। সে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন তাঁকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু সমালোচনাও করেছেন। বিষয়টিতে ইতি না টেনে মৌমিতা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) লিখলেন তাঁর কথা।  মোদ্দা কথা, অভিনয়ের দৌলতে তাঁকে যতজন না চিনতেন, রাহুল-বিতর্কে জড়িয়ে অভিনেত্রী এখন সকলের মুখে মুখে। 

মৌমিতা কী লিখলেন, যা নিয়ে ফের বিতর্ক? নিজেই বলছেন, সত্যি সামনে আনার কারণে শুধু পরিচিতরা নন, অপরিচিতরাও তাঁকে দূষছেন। রাহুল তাঁর সঙ্গে শেষের দিকে সম্পর্কে ছিলেন একথা বলার পরেই প্রকাশ্যেই মৌমিতাকে কড়া কথা শুনিয়ে দেন সুদীপ্তা, শ্রীলেখা, জয়জিৎ, মানসী সিনহারা। সকলেরই প্রশ্ন, মৌমিতা এমন বক্তব্য রাখার আগে কেন ভাবলেন না প্রিয়াঙ্কার কথা। বিশেষ করে সদ্য বাবা হারানো সহজের (Sahaj Rahul's son)কথা? 

মৌমিতা লিখছেন, যারা আমাকে চেনে না, তারা না হয় না বুঝে আক্রমণ করল। কিন্তু যারা আমাকে চেনে, জানে, এতদিন আমার কাজ দেখেছে-তারাও একবার আমাকে সত্যিটা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করল না! কারণ আমার বিরুদ্ধে পোস্ট লেখাটাই যেন আপনাদের কাছে সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল। আসল সত্য জানার আগেই পোস্টটা লিখে ফেলতে হবে, যাতে আমাকে 'সস্তা', 'বাজারি', 'মিথ্যাবাদী', 'ধান্দাবাজ', 'ফুটেজখোর', 'নোংরা মহিলা', 'জালি' কিংবা 'অসভ্য'-এরকম আরও কত কী বিশেষণ দেওয়া যায়! এসব বিশেষণ দেওয়ার পিছনে আমাদের 'সিনিয়রদের' অবদানও কিন্তু কম নয়। ধন্যবাদ আপনাদের। দাদা-দিদিরা, আপনারা নিজেদের ঠিক সেই 'তিনটি বাঁদরের' মতো বানিয়ে ফেললেন। কিন্তু কেন?

মৌমিতার সংযোজন, যারা এতদিন তাঁকে সামলে এসেছেন, তারা এই ঘটনার পর তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, একবারও জানতে আসেননি। যারা আসল সত্যটা জানতেন, তারাও অন্যদের ভুল ভাঙিয়ে দিচ্ছেন না। বরং সবাই চুপ করে মজা দেখছেন। তাঁর মতে, তারা চাইলে এই নোংরামো থামাতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। একজন মৃত মানুষকে সম্মান দিতে গিয়ে সকলে মিলে একজন জীবিত মানুষকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। 

মৌমিতা কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে মুখোমুখি বসে কথা বলতে আহ্বান জানিয়েছেন। সমালোচকদের বলেছেন, আপনারা সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আমি বয়সে ছোট এবং বিশাল কোনও বড় কাজ করে ফেলিনি বলেই কি আমাকে আক্রমণ করাটা এত সহজ হয়ে গেল? 

মৌমিতা তাঁর কথা লিখেছেন, লিখবেন। এটা তাঁর অধিকার। কিন্তু দুটি প্রশ্ন সামাজিক মানুষের। এক, রাহুল প্রয়াত। যদি আপনার সঙ্গে সম্পর্ক থেকেও থাকে, ভাল। সেটা আপনাদের ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে এনে আপনি কোন  মহাভারত উদ্ধার করলেন। কার কাছে কী প্রমাণ করলেন? নাকি কিছু মানুষকে অস্বতিতে ফেলাই ছিল উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে সস্তায় যদি ক'টা দিনের খবরে থাকা যায়, ক্ষতি কি!  আর রাহুলের প্রতি যদি এতটাই কমিটেড থাকেন, তাহলে রাজ্য সরকারকে বলুন, কেন মৃত্যুর ৬ মাস পরেও জানা গেল না রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) মৃত্যুর আসল কারণ কী? প্রয়োজনে চিঠি লিখুন, থানায় যান...
যদি তা না করেন তাহলে বুঝতে হবে, যা বলা হচ্ছে তা খুব একটা ভুল কথা নয়।