বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত অভিনেতা রবি ঘোষের পরিবারের এক বিষণ্ণ বাস্তব সামনে আসতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহলে। রবি ঘোষের ভ্রাতৃবধূ সুমিতা ঘোষ দস্তিদার-এর বর্তমান এবং শেষ ঠিকানা এখন সোনারপুরের নিবেদিতা বৃদ্ধাশ্রম। যে পরিবারের নাম শুনলেই একসময় বাঙালির মুখে হাসি ফুটত, সেই পরিবারেরই এক বর্ষীয়ান সদস্যের শেষ জীবনের এই করুণ পরিণতি সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগ, রেজিনগর উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল RSP
এই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই বৃদ্ধার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি তিনি ওই বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে সুমিতা দেবীর সঙ্গে দেখা করেন, তাঁর হাতে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন এবং দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান। সুমিতা দেবীর পাশে বসে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। বর্তমান সমাজে প্রবীণদের এই অসহায়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রবি ঘোষের মতো একজন মহান শিল্পীর পরিবারের মানুষ আজ এই অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষকে যখন নিজের চেনা ঘর ছাড়তে হয়, তার চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। তবে নিবেদিতা বৃদ্ধাশ্রম যেভাবে ওনাকে আগলে রেখেছে, তা প্রশংসনীয়। আমাদের সকলেরই উচিত এই ধরণের অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের মুখে একটু হাসি ফোটানো।”
আরও পড়ুন: মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক কল্যাণ
স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বার্ধক্যের নানাবিধ সমস্যা ও পারিবারিক একাকীত্বের জেরে ওই বৃদ্ধা এই আশ্রমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের ঘর-সংসার ছেড়ে এক সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই লড়াই নেটিজেনদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নানাজন নানা মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ দুঃখ প্রকাশ করে বলছেন, “সারা জীবন কষ্ট করার পর শেষ বয়সে এসে এমন জীবন কাটানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” আবার অনেকের মতে, আজকের দিনে পরিবারে অশান্তি বা অবহেলার শিকার হওয়ার চেয়ে অপরিচিত মানুষদের মাঝে বৃদ্ধাশ্রমে শান্তিতে থাকা অনেক ভালো।
আরও পড়ুন: মহিলাদের প্রতিবাদ থামাতে লাঠি হাতে বিজেপি নেতা! কুমারগঞ্জে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র শোরগোল
বাংলা বিনোদন জগতের এক দিকপালের পারিবারিক উত্তরাধিকারীর এই চরম একাকীত্বের ছবি আরও একবার বর্তমান সমাজের ক্ষয়িষ্ণু পারিবারিক মূল্যবোধকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। চেনা কোলাহল আর গ্ল্যামার থেকে দূরে, সোনারপুরের নিবেদিতা বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালের শান্ত পরিবেশে কেমন কাটছে এই বৃদ্ধার দিনগুলি, তা নিয়ে সমাজের সর্বস্তরেই এখন গভীর সমবেদনা।
















