টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে বিতর্ক যেন থামবার নয়। এবার সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন প্রখ্যাত সুরকার গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়। টলিপাড়ার একসময়ের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হিসেবে পরিচিত ‘দুই বিশ্বাস’— অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও ফেডারেশন কর্তাদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এই দুই ব্যক্তির বেফাঁস কীর্তি এবং অনৈতিক চাহিদার কারণে বহু শিল্পী দিনের পর দিন হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
আরও পড়ুন: টিজারেই ‘হুঙ্কার’! ওটিটিতে আসছে টানটান কোর্টরুম ড্রামা
এক সাক্ষাৎকারে সুরকার গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, টলিপাড়ার একটি নির্দিষ্ট চক্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। শিল্পীদের দিয়ে নিখরচায় বা ‘ফ্রিতে’ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ফাংশন করিয়ে নেওয়ার রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিতর্ক আরও বাড়ে যখন তিনি ইঙ্গিত করেন যে, শুধু বিনামূল্যে অনুষ্ঠান করানোই নয়, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীদের, বিশেষ করে নবাগতদের ওপর চরম অনৈতিক মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করত। তিনি এমনও অভিযোগ করেন, ইন্ডাস্ট্রির এক নায়িকাকে ফোনে বলতে শুনেছি, “অরূপ দা, শুতেও হবে, বিনা পয়সায় ফাংশনও করতে হবে?” তিনি এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতাশালী এই দুই ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলনে যারা চলত না, তাদের কেরিয়ার রাতারাতি ধ্বংস করে দেওয়া হত।
আরও পড়ুন: একের পর এক গ্রেফতারি, রেজিনগরে প্রচার থেকে সরলেন হুমায়ুন
স্বরূপের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যিনি নিজে ক্যামেরায় ছবি তুলতে পারেন না, ইন্ডাস্ট্রির ধারে কাছেও ছিলেন না উনি হয়ে গেলেন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট। ডিরেকশন না দিয়েও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বার হয়ে গেলেন। আমি কেন ইন্ডাস্ট্রির যে কেউ বলবেন জাস্ট ক্ষমতার অপব্যবহার।”
তৃণমূল আমলের কালচার হয়ে গেছিল মেয়েদের অভিনয়ের পেশায় থাকতে গেলে শুতেও হবে। এ প্রসঙ্গেই তিনি ক্লাব ঘরে কনডম, বিছানা থাকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “দাদা ক্লাব তো আমরাও চালাই। ক্লাবে তো ক্যারাম বোর্ড থাকে, বিছানা কেন থাকবে?”
আরও পড়ুন: Asian Games: দলগত ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত রাউন্ডেও রূপো, এক ঘণ্টায় জোড়া পদক ইলাভেনিলের
প্রভাবশালী নেতাদের খুশি করতে শিল্পীদের বাধ্য করা হত নিখরচায় বড়ো বড়ো শো বা ফাংশন করতে। তাঁদের নির্দেশ অমান্য করলেই মিলত ‘ব্যান’ বা কাজ না পাওয়ার শাস্তি। যোগ্য শিল্পীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শুধু এই সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার দাপটের কারণে। এর আগেও পরিচালক ও টেকনিশিয়ানদের একাংশ তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। কিন্তু গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ যে দুই বিশ্বাস ব্রাদারসকে আবারও লাইমলাইটে নিয়ে এল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
















