মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ ঘিরে বহু দশকের পুরোনো বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিল। মহানায়কের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায়ের এক বক্তব্যের জবাবে মুখ খুললেন সুপ্রিয়া দেবীর কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নবমিতা দাবি করেছিলেন, উত্তম কুমারের প্রয়াণের পর গিরীশ মুখার্জি রোডের পৈতৃক বাড়িতে সুপ্রিয়া দেবীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বা শেষ দেখা দেখতে দেওয়া হয়নি। সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য বলে জানিয়ে দিলেন সুপ্রিয়া-কন্যা। নেটমাধ্যমে পোস্ট করা এক বিশেষ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি সাফ জানান, সুপ্রিয়া দেবীকে কেউ বারণ করেননি, উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের ইচ্ছেতেই সেদিন পিছিয়ে গিয়েছিলেন।
চিরকাল সংবাদমাধ্যমের আড়ালেই থেকেছেন সুপ্রিয়া-কন্যা সোমা। সুপ্রিয়া দেবীর প্রথমপক্ষের সন্তান হলেও মহানায়ক উত্তম কুমারকে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। ফলে সেই সময়ের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই ভুল তথ্যে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত পডকাস্টে উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতা দাবি করেছিলেন, মহানায়কের মৃত্যুর পর সুপ্রিয়া দেবী বেশ কিছুটা দেরিতে এসেছিলেন এবং তাঁকে সেখানে আসতে বাধা দেওয়া হয়। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে সোমা চট্টোপাধ্যায় জানান, উত্তম কুমারের এক আত্মীয় দাবি করেছেন যে গিরীশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে সুপ্রিয়া দেবীকে শেষ দেখা দেখতে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সোমা বলেন, সেদিন তিনি মায়ের সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁর মা স্বেচ্ছায় যাননি। অনেক সমস্যা ও ঝামেলা তৈরি হয়েছিল বলেই তাঁর মা নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
উত্তম কুমারের জীবনের শেষ দুই দশকের স্মৃতিকথা তুলে ধরে সোমা চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁর মা দীর্ঘ ২০ বছর মহানায়কের পাশে ছিলেন। উত্তম কুমার যাতে শান্তিতে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন এবং বড় মাপের অভিনেতা হিসেবে কাজ করে যেতে পারেন, তার জন্য সুপ্রিয়া দেবী নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছিলেন। মহানায়ক তাঁর হাতের রান্না খেতে ভালোবাসতেন বলেই তিনি রূপোলি পর্দা ছেড়ে রান্নাঘরের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে আরও জানান, যে বা যাঁরা এই ধরনের দাবি করছেন, তাঁরা হয়তো সেই সময় খুবই ছোট ছিলেন এবং তখনকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না। মহানায়কের প্রয়াণের পর রাজনৈতিক ও পারিবারিক নানা জটিলতা এবং অনভিপ্রেত ঝামেলা এড়াতেই সুপ্রিয়া দেবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরে যান। ইতিহাস যাতে বিকৃত না হয়, সেই কারণেই এই ভুল তথ্য শুধরে দেওয়ার চেষ্টা বলে জানান তিনি।
















