প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য 'প্রোটোট্যাক্সাইট', জীবন্ত মিনারে লুকিয়ে বিবর্তনের রহস্য!

প্রাচীন পৃথিবীর অজানা রহস্য উন্মোচনে বদলে যায় চিরাচরিত ধ্যান-ধারণা। এতদিন ধরে যা বিশ্বাস করে বিবর্তিত হয়েছে মানব ভাবনা, এবার যেন তা পৌঁছে গেল চরম সীমায়। উচ্চতায় প্রায় ২৬ ফুট, দেখতে অনেকটা জীবন্ত মিনারের মতো-পরিচিত জীবজগতের কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিচিত্র দর্শন এক প্রজাতি ডাইনোসোরাসের আগেই নাকি গোটা পৃথিবীতে (Prehistoric Earth) নিজেদের অস্তিত্বের বিকাশ ঘটিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বিবর্তনের ইতিহাস!
Sponsored

পৃথিবীর জীবজগৎ বলতে বিজ্ঞানীদের ধারণায় উদ্ভিদ, প্রাণী, ছত্রাক, আণুবীক্ষণিক প্রাণ থাকলেও এই 'নয়া উদ্ভাবন' বিস্ময়ের সব সীমা পার করে গেছে। আজ থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে সর্বোচ্চ ২৬ ফুট উচ্চতার এই 'প্রাণী'রাই পৃথিবীর বুকে বিরাজ করত। অর্থাৎ হিসাব বলছে ডাইনোসরের আগের অধ্যায়।এই জীবদের নাম প্রোটোট্যাক্সাইট (Prototaxites)। ২০২৬ সালের এদের নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হলেও ১৮৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল ওই জীব! কোনও কোনও জীবাশ্মবিদ মনে করতেন, এরা আসলে ‘ছত্রাকের গডজিলা’! আবার কোন কোন বিজ্ঞানীর মতে প্রোটোট্যাক্সাইট আসলে শৈবালের স্তূপ। কিন্তু জীবাশ্মবিদ্যার রহস্য নিবারণ হয়নি। তবে সাম্প্রতিককালে জানা গেছে এরা এক ধরনের বহুকোষী জীব। যখন পৃথিবীর ত্বক জুড়ে শুধুই লতা গুল্মের বিচরণ তখন অস্তিত্ব ছিল বিশালাকার এই প্রোটোট্যাক্সাইটদের। 'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস' (Science Advances) নামক জার্নালে সম্প্রতি এই নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
Sponsored

প্রোটোট্যাক্সাইটদের (Prototaxites) নিয়ে যত গবেষণা হচ্ছে ততই অবাক হয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ আমাদের চিরাচরিত ধ্যান ধারণার জীবজগতের কাঠামোর থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের অধ্যাপকের কথা অনুযায়ী, 'নিশ্চিত ভাবেই এগুলো জীবন্ত ছিল। কিন্তু আমরা এখন যেভাবে জীবনকে জানি, তেমন নয়। ছত্রাক বা উদ্ভিদ জীবন থেকে স্বতন্ত্র শারীরিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই জীব বিবর্তনের শাখার এক সম্পূর্ণ বিলুপ্ত শ্রেণির জীব!'এটিকে পাওয়া গিয়েছিল স্কটল্যান্ডের রাইনি চার্ট নামের একটি পাললিক স্তরে। অভ্যন্তরীণ গঠন পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেছেন এদের ভিতরটা ছত্রাকের ভেতরের মতো একগুচ্ছ নল দিয়ে গঠিত। কিন্তু নলগুলি যেভাবে শাখাপ্রশাখা বিস্তার ফের সংযুক্ত হয়েছে, তার সঙ্গে আধুনিক কোনও ছত্রাকের মিল নেই। অর্থাৎ এরা যে একেবারেই ভিন্ন প্রজাতির ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অতিকায় ডাইনোসরদের আগে এদের অস্তিত্বের উপস্থিতির কথা জানা যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের উচ্চতা এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কারন ঘিরে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
Sponsored


Sponsored

গবেষকদের ধারণা, উদ্ভিদ জগতের ক্রমবর্ধমান অবস্থা এবং বৈচিত্রের কারণে ক্রমাগতই প্রাগৈতিহাসিক যুগের পরিবেশ প্রোটোট্যাক্সাইটদের বেঁচে থাকার পক্ষে প্রতিকূল হয়ে উঠতে থাকে। সম্ভবত সেই কারণেই আজ থেকে প্রায় ছত্রিশ কোটি বছর আগে তারা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যদিও এই নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। আগামী দিনে গবেষণায় আর কোন বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসে এখন সেদিকেই তাকিয়ে বৈজ্ঞানিক মহল।
Sponsored

-
Sponsored

-
-
-
-
-
Related Articles

'পানেঙ্কা শট', উৎপল সিনহার কলম
2d ago

বেআইনি নির্মাণের জন্য থানা-পুরসভাকে ঘুষ সোনা পাপ্পুর! ED চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য
2d ago

'ভোজিনা বুবিস্তা কেপ ভার্দে', উৎপল সিনহার কলম
Jul 5

'বারেসি ও মালদিনি', উৎপল সিনহার কলম
Jun 28

শুভেন্দুর সঙ্গে কোন স্মৃতি এখনও অমলিন মহুয়ার?
Jun 24

সরকার বদলাতেই মাটির দামে আগুন, জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও মৃৎশিল্পীদের
Jun 24





