গত বেশ কয়েক বছর ধরে NCPI-র মতো দেশের অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি বিপুল অঙ্কের অনুদান পাচ্ছে। অথচ বাস্তবে এই দলগুলির সেভাবে কোনও রাজনৈতিক অস্তিত্বই নেই। নির্বাচনের ময়দানেও তাদের সেভাবে দেখাও যায় না। অথচ এই দলগুলিই আর্থিক অনুদানে কোনও কোনও ক্ষেত্রে টেক্কা দিচ্ছে দেশের স্বীকৃত বড়বড় রাজনৈতিক দলগুলিকে। এখন প্রশ্ন হল, কোন জাদুমন্ত্রে এটা সম্ভব হচ্ছে? গদ্দারদের দল এনসিপিআইয়ের বিপুল আয়ের উৎসটা কী?
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফে কিছুদিন ধরেই এনসিপিআই-এর মতো দেশের ‘কাগুজে দল’গুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। অভিযোগ, নানা আর্থিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এই দলগুলোকে ব্যবহার করছে বিজেপি। এবার এই দলগুলিকে নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল। সৌজন্যে, পৃথিবী বিখ্যাত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তাদের সমীক্ষা বলছে, ভারতের এই কাগুজে দলগুলোর বেশির ভাগেরই কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। নির্বাচনেও এদের সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায় না। কিন্তু তথ্য বলছে, এই দলগুলিই শত শত কোটি টাকার অনুদান পাচ্ছে। আর সেখানেই উঠছে প্রশ্ন।
রিপোর্ট বলছে, দেশে এমনও দল আছে, যারা চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে লড়াই করেছিল। কিন্তু তারাই আবার ২০২৩-’২৪ সালে ৩৩০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে! দলের নথি অনুযায়ী এই বিপুল টাকার মধ্যে দলটি নির্বাচনী প্রচারে ৮.৪৮ কোটি টাকা এবং 'জনকল্যাণে' ৩১৬ কোটি টাকা খরচ করেছে। সমীক্ষা বলছে, লোকসভা নির্বাচনের আগের অর্থ বছরে সর্বোচ্চ অনুদান পাওয়া ৬টি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল নিয়ে তদন্তে তহবিলের স্বচ্ছতার অভাবই ধরা পড়েছে। তথ্য বলছে, দেশে ২,৮০০-রও বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭৩টি দল নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাতীয় বা রাজ্য দল হিসেবে স্বীকৃত। বাকিগুলো অস্বীকৃত বা আরইউপিপি। এনসিপিআই এই তালিকাতেই পড়ছে। ২০২৩-’২৪ সালে এই দলগুলোর মোট আয় শাসক দল বিজেপি বাদে অন্য পাঁচটি জাতীয় দলের আয়ের চেয়েও বেশি। তবু কমিশনের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে ধনী ছটি অস্বীকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল, যেখানে বিজেপি বাদে অন্য পাঁচটি দল ৮৯৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল।
















