ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। নিখোঁজ ১০৫ জন ভারতীয়। খোঁজ মিলছে না হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষের। জলপ্রবাহের টান ও ধসে নিখোঁজ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৪১ জন পুলিশ কর্মী ও ১৪ জন শুল্ক দফতরের কর্মীও। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জন।
হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তর নেপালের রসুয়া জেলা। বুধবার তিব্বতের দিক থেকে আচমকাই বিপুল জলরাশি ধেয়ে আসে নেপালের ভোতেকোশি নদীতে। মুহূর্তে যা ভয়াবহ আকার নেয়। জলের তোড়ে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় একের পর এক বাড়ি দোকান, সেতু। ভেসে গেছে বহু গাড়ি।
বিপর্যয়ের পর নেপালে ভারতীয় দূতাবাস থেকে দুটি হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। নিখোঁজ বা হড়পা বানে প্রভাবিত ভারতীয়দের বিষয়ে কোনও তথ্যের জন্য ওই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নম্বরগুলি হল +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার ১৭ জন, ব্রিটেনের ১২ জন, সাউথ আফ্রিকার চার জন, আমেরিকার তিন জন, অস্ট্রেলিয়ার এক জন এবং নেদারল্যান্ডসের এক জন পর্যটক। বাকি ১১১ জন বিদেশি কোন দেশের নাগরিক, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
এক্স হ্যান্ডেলের প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন,"প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলেছি। নেপালে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে রয়েছে। নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণকার্য নিয়ে আমাদের দলগুলি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে।" ভয়াবহ এই পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।
সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রসুয়া জেলার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি, মাইলং, সাল্লেতার, শান্তি বাজার, খালতি বস্তি, শোলে সহ ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী এলাকা। রসুয়া এবং নুয়াকোটের মধ্যে একাধিক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
তিব্বত থেকে আসা এই ভোতেকোশি নদী নেপাল হয়ে ভারতের বিহারে প্রবেশ করেছে। সেখানে তার নাম গন্ডক। এই নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাজের সূত্রে নেপালে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। দিল্লির রেসিডেন্ট কমিশনারের অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেসিডেন্ট কমিশনার অফিসকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা রয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে।
নেপালের এই বিপর্যয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও অজানা। প্রাথমিক রিপোর্টে ক্ষয়ক্ষতির ছবি ভয়াবহ হলেও মৃতের সংখ্যা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রশাসনের আশঙ্কা মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আপাতত উদ্ধার ও ত্রাণকাজকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে সরকারের তরফে এখনও কোনও নিশ্চিত কারণ জানানো হয়নি। জনসাধারণের সম্পত্তি ও সরকারি প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও অজানা।
















