রবিবারের শান্ত দুপুরে আচমকাই তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীর অভিজাত চাণক্যপুরী লাগোয়া মোতি বাগ এলাকা। চোখের নিমেষে হুড়মুড়িয়ে মাটিতে মিশে যায় প্রায় অর্ধশতাব্দী প্রাচীন একটি ছ’তলা মেসবাড়ি। এখনও পর্যন্ত ৬ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে ৯ জনকে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষের নীচে এখনও অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আটকে থাকতে পারেন। 

ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। দিল্লি পুলিশ ও দমকলের পাশাপাশি নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। ৭০ জনের দু’টি বিশেষ দল, অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ স্কোয়াড নিয়ে চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ফাটল দিয়ে ক্রমাগত অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানো হচ্ছে। তবে এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং গলিগুলি অত্যন্ত অপ্রশস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী ভারী গাড়ি ও ক্রেন ঢুকতে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। 

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের সন্নিকটে অবস্থিত এই মোতি বাগ এলাকায় মূলত বাইরের রাজ্য থেকে আসা পড়ুয়ারা ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে থাকেন। ফলে গড়ে উঠেছে একাধিক অননুমোদিত মেসবাড়ি ও খাবারের দোকান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও বেআইনি নির্মাণের কারণেই এই বিপর্যয়। অধিকাংশ মেসবাড়ির মালিকেরা অন্যত্র থাকেন, ভাড়ার মোটা টাকা পকেটে পুরলেও পুরনো বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে তাঁদের কোনও নজর থাকে না। একই সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও নজরদারির অভাব নিয়েও ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। 

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পরিস্থিতির তদারকিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, দিল্লি পুলিশ কমিশনার ও এনডিআরএফ প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।