খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া যুবককে তদন্তের নামে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। ধৃত যুবককে আইন মেনে শাস্তি না দিয়ে তদন্তের নামে এরকম অমানবিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ  বিজেপিশাসিত রাজ্যের (BJP-Ruled State) পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গুজরাটের ভবনগরে (Bhavnagar, Gujarat)। লিভ-ইন সঙ্গিনীকে (Live-in Partner) খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ওই যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধরের ঘটনায় পুলিশের (Police) ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। ঘটনার পুনর্নির্মাণের নামে পুলিশের এই আচরণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) অভিযুক্তকে পুলিশের গাড়ির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধরের ছবি দেখা গিয়েছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়জল ওরফে খাটকি লাখানি (Faisal, alias Khatki Lakhani)। বয়স ২০ বছর। কয়েক বছর ধরে ৪০ বছরের কাজলবেন বারাইয়ার (Kajolben Baraiya) সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর ভবনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে দু’জনের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে বিবাদ বাধে। সেই সময় কাজলবেনকে ফয়জল মারধর করেন বলে অভিযোগ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি-ঘুষি মারা হয়। এমনকী পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাজলবেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই খুনের অভিযোগে ফয়জলকে গ্রেফতার (Arrest) করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার তাঁকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময়ই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ সামনে আসে।

ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সমাজমাধ্যমে (Social Media) একাংশ এই ঘটনাকে অমানবিক বলে সরব হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই জায়গায় তদন্তের নামে পুলিশ যদি নিজেরাই এরকম শাস্তি দিতে শুরু করে, তা হলে আইনের শাসন এবং পুলিশের জবাবদিহি কোথায়? বিজেপি-শাসিত গুজরাটে এই ঘটনায় সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে।