প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ( Narendra Modi) ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে ফের শুরু বিতর্ক। আর তা সেই নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ককরোচ জনতা পার্টি -র ( CJP)। দলের তরফে অভিযোগ, দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁদের গায়ে ‘বোকাবোকা তকমা’ সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির (Modi) উচিত তরুণদের মনে আশা জাগানো এবং তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রশ্ন তোলার জন্য তাঁদের সমালোচনা করা নয় বলে মত সিজেপির। 

শনিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স (এসআরসিসি)-এ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)। সেখানেই ফের উঠে আসে ‘দিমাগি নকশাল’ প্রসঙ্গ। তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে কেন তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দেন মোদি।


প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি ছিল অনেকটা ‘হোমিওপ্যাথি ডোজ’-এর মতো। তাঁর কথায়, লালকেল্লা থেকে ওই ‘ডোজ’ দেওয়ার পর দেশে কারা ‘দিমাগি নকশাল’,তা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা, এই ধরনের ‘ডোজ’ প্রথমে রোগের তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে, তার পর শুরু হয় চিকিৎসা।

মোদির এই মন্তব্যের পরেই সরব হয়েছে সিজেপি (CJP)। দলের অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস নিজের সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার একটি অংশ পোস্ট করে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের অন্যতম সেরা কলেজে গিয়ে প্রশ্ন করা তরুণ প্রজন্মকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শোভনীয় নয়। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য আরও বেশি হতাশাজনক বলেও দাবি তাঁর।

সৌরভ আরও বলেন, এসআরসিসি-র পরিকাঠামো, শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা কিংবা চিকিৎসা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি সংক্রান্ত দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনের মতো বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে পারতেন। কিন্তু সেই সমস্ত প্রসঙ্গ এড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকেই ‘লক্ষ্যবস্তু’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। 

ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করলেই কি কেউ ‘দিমাগি নকশাল’ হয়ে যাবেন—প্রশ্ন তুলেছেন সৌরভ। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হল তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা তৈরি করা। প্রশ্ন করার জন্য তাঁদের নিন্দা না করে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই উচিত বলে দাবি তাঁর।

সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাও প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এসআরসিসি-র মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, চাকরি এবং পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন, এমনটাই আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু তার পরিবর্তে ‘দিমাগি নকশাল’-এর মতো বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে সশস্ত্র নকশালবাদ অনেকটাই দুর্বল করার দাবি করেছিলেন মোদি। একই সঙ্গে মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু মানুষ এখনও সুযোগ খুঁজছেন বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। তাঁদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে তাঁদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলে অভিহিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)।

তাঁর বক্তব্য ছিল, মাওবাদী মনোভাবাপন্নরা দেশে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে এবং সমাজকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছেন। তাই তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে দেশের উন্নয়নের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। শনিবার এসআরসিসি-র অনুষ্ঠানেও সেই বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন মোদি। আর তা নিয়েই নতুন করে শুরু হল নয়া বিতর্ক।