নবরাত্রির আগে মহারাষ্ট্রে গরবা ও ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উৎসবের আয়োজন নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। সংগঠনের তরফে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাই, আধার কার্ড পরীক্ষা এবং কপালে তিলক দেওয়ার মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। VHP-র মুখপাত্র ও যুগ্ম সম্পাদক শ্রীরাজ নায়ার জানিয়েছেন, নবরাত্রির গরবা ও ডাণ্ডিয়া অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সংগঠনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর যুক্তি, নবরাত্রি শুধুমাত্র নাচ-গানের উৎসব নয়, এটি হিন্দু দেবীর উপাসনাকে কেন্দ্র করে পালিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
VHP-র বক্তব্য, এই পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতেই এই নির্দেশিকা। তবে সংগঠনের এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শিবসেনা (UBT)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউত VHP-র সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে RSS প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, VHP-র অবস্থান কি RSS-এর মতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত সামাজিক ঐক্য, মানবিক মর্যাদা এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির গুরুত্বের কথা বলেছিলেন। তবে ভাগবতের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি VHP নেতা শ্রীরাজ নায়ার। তাঁর দাবি, VHP কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় এবং সংগঠন সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। তবে নায়ারের বক্তব্য, নবরাত্রির ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার পদ্ধতির সঙ্গে যাঁরা একমত নন, তাঁদের জন্য সংগঠনের নির্ধারিত নিয়ম কেন শিথিল করা হবে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক আমিন পটেল VHP-র এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মীয় উৎসবগুলি বরাবরই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। স্বাভাবিকভাবেই নবরাত্রি শুরু হওয়ার আগে VHP-র এই নির্দেশিকা ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
















