রবিবার দুপুরে দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি ছয়তলা পুরনো বহুতল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও দু’জন। এখনও পর্যন্ত আট জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু আবাসিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও দমকল।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনের নানকপুরা গুরুদ্বার সংলগ্ন ‘হস্টেল ডেজ’ নামের ওই বহুতলে মূলত কেরল, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরে অধিকাংশ পড়ুয়াই ঘরের ভেতরে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় ভবনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। দুপুর নাগাদ আচমকাই তীব্র শব্দে গোটা কাঠামোটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ শুনে উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগেই অনেকে হাত দিয়ে কংক্রিটের চাঙড় সরানোর চেষ্টা শুরু করেন।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ দশক পুরনো এই ভবনের বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল। সেই সময়ই এই বিপর্যয় ঘটে বলে প্রাথমিক অনুমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের যৌথ দল। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে অন্তত ১২টি দমকলের ইঞ্জিন ও ভারী এক্সক্যাভেটর। বিশালাকার কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সংলগ্ন আরেকটি বহুতলকেও খালি করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানান, আটকে থাকা প্রত্যেককে নিরাপদে বের করে আনাই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। অন্য দিকে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে এবং এই বিপর্যয়ের আসল কারণ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
















