মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের পরিধি বাড়ানোর কেন্দ্রীয় নীতির মধ্যেই এবার ইসরোর (ISRO) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল সংস্থার অন্দরেই। উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে ইসরো ধীরে ধীরে সরে গেলে তার প্রভাব সংস্থার গবেষণা ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্মীদের। এই পরিস্থিতিতে মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারিকরণ নিয়ে সরকারের নীতি, ইসরোর আগামী দিনের দায়িত্ব এবং কর্মীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়ে চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে (Chairman V. Narayanan) চিঠি দিয়েছে কর্মীদের ন’টি সংগঠন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই চিঠিতে সংগঠনগুলির তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে, বেসরকারি ক্ষেত্রকে মহাকাশ গবেষণা (Space Research) ও উৎপাদনের কাজে আরও বেশি যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা কী। ভবিষ্যতে ইসরো নতুন কর্মী নিয়োগ করবে কি না, বর্তমানে কর্মরতদের দায়িত্ব ও কর্মজীবনের উপর এই নীতির কী প্রভাব পড়বে সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (ISRO Staff Association), এসএইচএআর এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (SHAR Employees' Association), আইস্যাক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (Isaac Employees' Association) এবং ইসরো স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এলপিএসসি-সহ (ISRO Staff Association - LPSC) মোট ন’টি সংগঠন এই চিঠি দিয়েছে।

কর্মীদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ইন-স্পেস চেয়ারম্যান পবনকুমার গোয়েঙ্কার (IN-SPACe Chairman Pawan Kumar Goenka) সাম্প্রতিক বক্তব্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘‘ক্রমে ইসরো আর কোনও উৎক্ষেপণ যান তৈরি করবে না। সেগুলি তৈরি করবে বেসরকারি ক্ষেত্র বা পিএসইউ (PSU)। বেসরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে ইসরো। এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে উৎক্ষেপণ যান ও অতি সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল দিয়ে। নিলাম করে এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের স্বত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) হাতে তুলে দিয়েছে তারা।’’ পরবর্তী ধাপে পিএসএলভি এবং এলভিএম-৩-এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হস্তান্তরের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ইন-স্পেস চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরো ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থার কাছে ১২০ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, উৎক্ষেপণযান ও উপগ্রহ নির্মাণ ইসরোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই কাজের পরিধি যদি ক্রমশ কমতে থাকে, তা হলে ভবিষ্যতে সংস্থাটির মূল দায়িত্ব কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সংগঠনগুলির অভিযোগ, বেসরকারিকরণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে একাধিক বক্তব্য প্রকাশ্যে এলেও কর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে নীতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা ভবিষ্যৎ নিয়োগ নিয়ে কোনও স্পষ্ট আলোচনা হয়নি। গত ১২ বছরে ইসরো থেকে প্রায় ৭০০ কর্মীর চাকরি ছাড়ার তথ্যও চিঠিতে উত্থাপিত হয়েছে। ফলে শুধু কর্মীদের চাকরির ভবিষ্যৎ নয়, দেশের মহাকাশ গবেষণায় ইসরোর দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়েও দ্রুত স্পষ্টতা চেয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।