৫০০ বছর পরে বদলাতে চলেছে পৃথিবীর মানচিত্র। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN)সাধারণ সভায় পাশ হয়ে গেল ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে বিশ্বের নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাব। সেই ‘ইকুয়াল আর্থ’( Equal Earth Map)-কে সমর্থন জানিয়েছে নয়া দিল্লি ( New Delhi)। সেইসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের তরফে এও জানানো হয়েছে ভারতের মানচিত্র অনুসারে রাষ্ট্রপুঞ্জের নতুন মানচিত্রে আঁকতে হবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের ছবি। অর্থাৎ এখন যেমনটা রয়েছে, তেমনই থাকবে।
এই প্রসঙ্গে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের তরফে জানান হয়েছে, "জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড দেশের সরকারি মানচিত্র মেনেই আঁকতে হবে। কোনও ত্রুটিপূর্ণ, ভুল মানচিত্র মেনে নেওয়া হবে না। ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, অপরিবর্তনীয় এবং আপসহীন।"
রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN)মোট ১৭১টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বিশ্ব মানচিত্রের ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিল ১৬৫টি দেশ। এর মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলেও বাকি দেশগুলিই প্রস্তাবের সপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর তাতেই ১৬৪-১ ফলাফলে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাব।
প্রথম ১৫৬৯ সালে ‘মার্কেটর মানচিত্র’ তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ (বর্তমান বেলজিয়াম)-জার্মান ভূগোল ও মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর। সমুদ্রপথে নাবিকদের যাতে চলাচলে সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। জেরার্ডাস তাঁর তৈরি মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের (মহাদেশ) আকৃতি ও কোণের সঠিক চিত্রায়নে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তবে বেশকিছু অঞ্চলের আয়তন নিয়ে দেখা গিয়েছিল বিকৃতি। মূলত, ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর আকৃতি দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে উপস্থাপনের ফলেই এমনটা ঘটেছিল। সেইসঙ্গে যেমন আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের প্রায় সমান দেখানো হয় এই মানচিত্রে। অথচ বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা। গ্রিনল্যান্ডের চেয়েও প্রায় ১৪ গুণ বড় আফ্রিকা। তাই নতুন মানচিত্রে এইসকল দিকের প্রতি দেওয়া হবে বিশেষ নজর।
















